সরকার নজরদারি সংস্কারের পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাত্র এক মাস আগে একটি অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর সর্বশেষ খসড়ায় ব্যাপক নজরদারি ক্ষমতা পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং আগে প্রস্তাবিত বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
এই পরিবর্তনগুলি নজরদারি কর্তৃপক্ষের সংজ্ঞা, অনুমোদন এবং তত্ত্বাবধানের উপায়গুলিকে পরিবর্তন করবে। তত্ত্বাবধান ব্যবস্থাগুলিও সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ প্রস্তাবগুলি বলছে যে পরিষদটি গৃহ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত হবে, আইন মন্ত্রণালয়ের আইন বিষয়ক ও সংসদীয় বিষয়ক বিভাগের সচিব এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা এতে সদস্য হিসেবে থাকবেন। এতে বিচারিক সদস্য অন্তর্ভুক্ত নেই, যার ফলে নজরদারির অনুমোদন ও কার্যক্রম একই প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে থাকবে।
মূল খসড়াটি, যা গত মাসে পোস্ট এবং টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের ওয়েবসাইটে জনসাধারণের মতামতের জন্য আপলোড করা হয়েছিল, একটি পরিষদ প্রস্তাব করেছিল যাতে অর্ধ-বিচারিক বৈশিষ্ট্য থাকবে, যার মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত প্রতিনিধি থাকবেন, যারা নজরদারি আবেদন পর্যালোচনা করবেন। এটি বলেছে যে পরিষদের সদস্যরা চার বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবেন এবং পরিষদের বিবেচনার ভিত্তিতে পুনর্নিযুক্ত বা প্রতিস্থাপিত হতে পারেন। পরিষদকে অবশ্যই সপ্তাহে কমপক্ষে দুবার মিটিং করতে হবে, যেখানে তারা নজরদারি আবেদন পর্যালোচনা করবে এবং তা অনুমোদন, সংশোধন বা প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নেবে, এটি যোগ করেছে। সমস্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড করা হবে এবং নিরীক্ষণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং একটি আপিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যাবে। উপরন্তু, ব্যক্তিরা পরিষদের কাছে অবৈধ নজরদারির অভিযোগ জানাতে পারবেন।
মূল প্রস্তাবগুলি একটি বহু-সংস্থার কাঠামোর লক্ষ্য রাখে যাতে কেন্দ্রীয় নজরদারি প্ল্যাটফর্মের তত্ত্বাবধান করা হয়। এই পরিবর্তনগুলি দেশের নজরদারি ব্যবস্থার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে এবং নাগরিকদের গোপনীয়তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া আসতে পারে এবং এটি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেও প্রভাবিত করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নজরদারি সংস্কারের পরিকল্পনা থেকে সরকারের পিছিয়ে যাওয়া নাগরিকদের গোপনীয়তার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা আরও বলছেন, এই ধরনের পরিবর্তন দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকেও দুর্বল করতে পারে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষে বলা হচ্ছে, এই পরিবর্তনগুলি দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয়। এই বিতর্ক চলতে থাকবে এবং দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই পরিবর্তনগুলির উপর নির্ভর করবে।
এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সরকারের পরবর্তী ধাপ নাগরিকদের গোপনীয়তা ও দেশের গণতান্ত্র



