রাশিয়া জার্মানির আন্তর্জাতিক ব্রডকাস্টার ডয়চে ভেলে (ডিডব্লিউ)কে ‘অবাঞ্ছনীয়’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর মানে হল ডিডব্লিউ রাশিয়ায় তার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।
এই তালিকাভুক্তকরণ রাশিয়ার বিচার মন্ত্রণালয়ের একটি নিবন্ধনে প্রকাশিত হয়েছে। রাশিয়ার সংসদের বিদেশী হস্তক্ষেপ তদন্ত কমিশনের প্রধান ভাসিলি পিস্কারেভ বলেছেন, ডিডব্লিউ ‘রাশিয়ার বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক প্রচারণায় অগ্রণী’। তিনি আরও বলেছেন, ‘অবাঞ্ছনীয়’ লেবেলটি মানে হল এখন থেকে ডিডব্লিউর সাথে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা অপরাধমূলক হিসেবে বিবেচিত হবে।
রাশিয়া নিয়মিতভাবে এমন সংস্থাগুলিকে ‘অবাঞ্ছনীয়’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে যেগুলিকে তারা তাদের সাংবিধানিক ক্রম বা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। এই ধরনের কার্যক্রমে অর্থায়ন বা সংগঠন করার জন্য আইনটি যথাক্রমে পাঁচ বছর এবং ছয় বছরের কারাদণ্ড নির্ধারণ করেছে।
ডিডব্লিউ ইতিমধ্যেই ‘বিদেশী এজেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা রাশিয়ার সমালোচকদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত একটি লেবেল। ডিডব্লিউর প্রধান নির্বাহী বারবারা মাসিং একটি বিবৃতিতে বলেছেন, এই সিদ্ধান্তটি রাশিয়ার স্বৈরাচারী শাসনের প্রতি তাদের ভয় প্রকাশ করে।
জার্মান সরকার এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রাশিয়ায় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আর নিশ্চিত নয়।
ডিডব্লিউ বলেছে, রাশিয়ার শ্রোতারা এখনও বিকল্প ব্রাউজার বা ভিপিএন ব্যবহার করে তাদের সামগ্রী পড়তে এবং দেখতে পারবেন।
রাশিয়ার এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এটি রাশিয়া এবং পশ্চিমা দেশগুলির মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। রাশিয়ার স্বৈরাচারী শাসন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে এই ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে।
ডিডব্লিউর রাশিয়ান পরিষেবা সেন্সরশিপ এবং ব্লকিং সত্ত্বেও একটি বড় শ্রোতাধারাকে অবদান রেখেছে। ডিডব্লিউ বলেছে, তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন সম্পর্কে স্বাধীনভাবে প্রতিবেদন করবে। এটি রাশিয়ার শ্রোতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করবে যাতে তারা নিজেদের মতামত গঠন করতে পারে।
এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়। এটি রাশিয়ার স্বৈরাচারী শাসন এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাশিয়ার স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।



