আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটের সব দলকে নিষিদ্ধ করার দাবি করে একজন আইনজীবী নোটিস পাঠিয়েছেন। এই নোটিসে বলা হয়েছে যে, এই জোটের দলগুলো সংবিধানের সব মৌলিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবে অপহরণ, হত্যা ও গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল।
এই নোটিসে আরও বলা হয়েছে যে, এই রাজনৈতিক জোট ২০০৯, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে কারচুপি করে বলেও অভিযোগ করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন মন্ত্রণালয়কে এ নোটিস পাঠানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, ১৪ দলীয় জোট গত বছরের ১ জুলাই থেকে ৫ অগাস্ট পর্যন্ত ১৪০০ জনকে ‘নৃশংসভাবে’ হত্যা করে এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়। এই জোটের দলগুলো সামাজিক অখণ্ডতার জন্য হুমকি তৈরি করছে এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও আসন্ন নির্বাচনের উপরও বিরাট হুমকি তৈরি করছে।
বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময় ২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকার গুলিস্তানে তখনকার আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়। এ ঘটনার পর ২৩ দফার ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সে বছরই রাজনীতির মাঠে আসে ১৪ দলীয় জোট। সে হিসাবে জোটটির বর্তমান বয়স ২১ বছর।
‘মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র এবং অসাম্প্রদায়িকতার’ আদর্শে যাত্রা শুরুর পর গণঅভ্যুত্থানের মুখে ছত্রভঙ্গ এ জোটে আওয়ামী লীগ, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জাতীয় পার্টি (জেপি), ন্যাপ (মোজাফফর) ছাড়াও আছে- গণতন্ত্রী পার্টি, সাম্যবাদী দল (দিলীপ বড়ুয়া), তরিকত ফেডারেশন, কমিউনিস্ট কেন্দ্র, গণআজাদী লীগ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি, বাসদ (রেজাউর রশিদ)। অর্থাৎ ১৪ দলীয় বলা হলেও জোটে আছে ১২ দল।
বিএনপি-জামায়াত সরকারের বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলনের পর নানা ঘটনাপ্রবাহে ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বড় বিজয় নিয়ে ক্ষমতায় আসে ১৪ দল ও জাতীয় পার্টিকে নিয়ে গঠিত জোট।
এই নোটিসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটের সব দলকে নিষিদ্ধ করার দাবি করা হয়েছে। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে তা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। এই বিষয়ে আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত জানা যায়।
এই নোটিসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটের সব দলকে নিষিদ্ধ করার দাবি করা হয়েছে। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে তা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন।



