পায়রা বন্দর, দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর, নেভিগেবিলিটি সংকটের মুখোমুখি। এটি জাহাজের চলাচলকে ব্যাহত করেছে এবং বিদেশী কার্গো জাহাজের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ আইনের অধীনে ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর পায়রা বন্দর প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট এটি কার্যক্রম শুরু করে। প্রথম বছরে ১০টি জাহাজ এখানে ভিড়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি বাড়তে থাকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এখানে ১,০১৪টি জাহাজ এসেছে এবং ৫.০৭৪ মিলিয়ন টন পণ্য আনছে।
কিন্তু গত অর্থবছরে পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২৩টি বিদেশী জাহাজ পায়রা বন্দরে এসেছে। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই সংখ্যা কমে ৮৫টি জাহাজে নেমে এসেছে। এছাড়াও পণ্য আনার পরিমাণও কমেছে।
বন্দর কর্মকর্তা ও ব্যবহারকারীরা বলছেন, রাবনাবাদ চ্যানেলের নেভিগেবিলিটি খারাপ হওয়ার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ২০২১ সালে বেলজিয়ামের জান ডি নুল নামক একটি ফার্মকে চ্যানেলটির গভীরতা বাড়ানোর জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল। এই প্রকল্পের খরচ ছিল ৬,৫০০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পটি ২০২৪ সালের এপ্রিলে শেষ হয়েছে। কিন্তু মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই চ্যানেলটির গভীরতা আবার কমে যায়।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ড্রেজিং শেষ হওয়ার পর মাত্র ১০০টি মাদার জাহাজ এখানে ভিড়েছে। বর্তমানে চ্যানেলটির গড় গভীরতা মাত্র ৬ মিটার। এটি বড় জাহাজগুলোর জন্য যথেষ্ট নয়।
এই পরিস্থিতি বন্দর কর্মকর্তা ও ব্যবহারকারীদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তারা বলছেন, চ্যানেলটির গভীরতা বাড়ানোর জন্য তাড়াতাড়ি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। নতুবা বন্দরটির কার্যক্রম আরও খারাপ হবে।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারকে তাড়াতাড়ি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। নতুবা বন্দরটির কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
পায়রা বন্দরের নেভিগেবিলিটি সংকট দেশের অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করবে। বন্দরটি দেশের বৃহত্তম বন্দরগুলোর মধ্যে একটি। এটি দেশের বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুতরাং, সরকারকে পায়রা বন্দরের নেভিগেবিলিটি সংকট সমাধানের জন্য তাড়াতাড়ি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। নতুবা দেশের অর্থনীতির জন্য বিপর্যয় ঘটবে।



