তানোরের কোয়েল হাট গ্রামে একটি পরিত্যক্ত বোরহোলে পড়ে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাটি বারিন্দ অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ জলের তদারকির ব্যাপক অবক্ষয় তুলে ধরে।
দুই বছর বয়সী শিশু সাজিদ ১০ই ডিসেম্বর দুপুরের দিকে খোলা বোরহোলে পড়ে যায়। ৩২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা উদ্ধার কাজের পর ১১ই ডিসেম্বর রাতে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ডাক্তাররা ৯টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানায়, এই বোরহোলটি প্রায় এক বছর আগে জমির মালিক কোচির উদ্দিন খালি রেখে গেছেন। সেই সময় তিনি সেচের জন্য জল খুঁজতে বোরহোল করেছিলেন, কিন্তু জল না পাওয়ায় বোরহোলটি খোলা রেখে দেওয়া হয়েছিল।
স্থানীয়রা আরও জানায় যে এই এলাকায় আরও দুটি পরিত্যক্ত বোরহোল রয়েছে। এই ঘটনাটি বারিন্দ অঞ্চলে অবৈধ ও পরিত্যক্ত বোরহোলের বিস্তার তুলে ধরে।
সাজিদের মা রুনা খাতুন জানায়, তাদের বাড়ির আশেপাশে কমপক্ষে তিনটি খোলা বোরহোল প্রায় দুই বছর ধরে রয়েছে। তিনি জানান, এই বোরহোলগুলোর কোনোটিতেই সঠিক ঢাকনা ছিল না।
স্থানীয়রা আরও জানায় যে এই বোরহোলটি আগে ঢাকা ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে মাটি ক্ষয়ে গিয়ে বোরহোলটি উন্মুক্ত হয়ে গেছে।
এই ঘটনাটি বারিন্দ অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ জলের তদারকির অবস্থা সম্পর্কে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, জমির মালিক কোচির উদ্দিন প্রতি বিঘা প্রতি ঋতুতে ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা সেচের জন্য চার্জ করেন।
এই ঘটনার পর স্থানীয়রা এই ধরনের বোরহোলগুলো সুরক্ষিত করার দাবি জানাচ্ছেন। তারা চাইছেন যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
এই ঘটনাটি বারিন্দ অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ জলের তদারকির অবস্থা সম্পর্কে আমাদেরকে সচেতন করে। আমাদের উচিত এই ধরনের ঘটনা রোধ করার জন্য সচেতন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
এই ঘটনার তদন্ত চলছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।



