জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকার ও পুলিশের ওপর নির্ভর করে জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না। তিনি বলেন, আমাদের নিরাপত্তা নিজেদেরই নিশ্চিত করতে হবে। ফলে জনগণের মধ্যে আমাদের সেই সংগঠন লাগবে।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। তিনি বলেন, জনগণকে আমরা আবারও আহ্বান জানাবো, ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে আমাদের নিরাপত্তা আমরা নিজেরাই নিশ্চিত করেছিলাম, যখন কোনো সরকার ছিল না, পুলিশ ছিল না। বাংলাদেশ সেই পরিস্থিতির দিকেই যাচ্ছে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, সামনের যে নির্বাচন, এই নির্বাচনটি হচ্ছে গণভোট। ফলে আগামীর নির্বাচনে গণভোটে সংস্কারের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হবে, আমরা সেই প্রত্যাশা রাখি। এনসিপির যারা এমপি পদপ্রার্থী রয়েছেন, তারা সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে শাপলা কলি নিয়ে জনগণের দরজায় যাবেন। আমরা সংস্কারের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো, আমরা কখনোই আর বাংলাদেশকে ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী জায়গায় নেবো না।
এ সময় বিজয় দিবস উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে বিজয়ের শুভেচ্ছা জানিয়ে নাহিদ বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আজকের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করার মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষেরা সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচার নিয়ে বাঁচার সংকল্প করেছিল। এই ভূখণ্ডের মানুষ যুগ যুগ ধরে লড়াই করেছে স্বাধীনতার জন্য, নিজের মানবিক মর্যাদার জন্য, সার্বভৌমত্বের জন্য। একাত্তর সালেও এরকম একটি জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের যেতে হয়েছে। এই দেশের তরুণরা, দেশের সাধারণ মানুষ, কৃষক মুক্তির সংগ্রাম করেছিল। আমরা আজকের এই দিনে শ্রদ্ধার সঙ্গে সেই সকল মুক্তিকামী মানুষদের স্মরণ করি এবং আমাদের যারা শহীদ হয়েছিলেন একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে, সেই সকল শহীদদের স্মরণ করি। আমাদের বীরাঙ্গনাদের আমরা স্মরণ করি—তাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা এই স্বাধীন ভূখণ্ড পেয়েছিলাম।
স্বাধীন ভূখণ্ড পেলেও ৫৪ বছরের ইতিহাসে দেশের জনগণের সঙ্গে বারবার প্রতারণা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, আমরা আশা করি যে আগামী নির্বাচনে জনগণ সংস্কারের পক্ষে একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে। আমরা সেই প্রত্যাশা রাখি এবং আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।



