সকালের আলো ফোটার আগেই সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় মানুষের ঢল নামে। লাল-সবুজের পতাকা হাতে বিভিন্ন বয়সী মানুষ, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।
কিছুক্ষণ পর তারা একে একে বেদির দিকে এগিয়ে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করে। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফুলে ফুলে ভরে ওঠে স্মৃতিসৌধের বেদি। এই শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে মানুষ মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করে।
এদিন সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। তাদের পরপরই আসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলো। দল বেঁধে আসা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে শোনা যায় দেশাত্মবোধক গান।
স্মৃতিসৌধের চারপাশে এ দিন নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যদের। ভিড় বাড়লেও সার্বিক পরিবেশ ছিল শান্ত ও সুশৃঙ্খল।
আশুলিয়ার শিমুলিয়া এলাকা থেকে স্ত্রী ও দুই কন্যাকে নিয়ে ফুল দিতে এসেছেন মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের কারণে দেশ পেয়েছি। আর এই দিনটিতে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা পেয়েছি। তাই শহীদ ও বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।
এর আগে, সকালে মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করার পর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রধান ফটক। এরপর থেকেই সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে স্মৃতিসৌধে।
ফুলের রঙে রঙিন হয়ে ওঠা বেদির সামনে অনেককেই দেখা যায় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে। কেউ কেউ সন্তানকে কোলে নিয়ে শহীদদের গল্প শোনান, কেউ আবার চোখ বন্ধ করে প্রার্থনায় মগ্ন হন। এই শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পৌঁছে দেওয়ার এক নীরব আয়োজন করে।
স্মৃতিসৌধে জনতার এ ঢল যেন ৫৫ বছর পরও ৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতি মানুষের কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার এক নিদর্শন। ১৯৭১ এর শহীদদের আত্মত্যাগকে মনে করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পৌঁছে দেওয়ার এক নীরব আয়োজন।
এই শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পৌঁছে দেওয়ার এক নীরব আয়োজন করে। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে মানুষ মুক্তিযুদ্ধের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করে। এই শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে মানুষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পৌঁছে দে



