সম্প্রতি ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ মনে করছে এই হামলা আগামী ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বানচাল করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। গুলিবর্ষণকারী হিসেবে পুলিশ যাকে চিহ্নিত করেছে, সেই ফয়সল করিম মাসুদ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন।
হাদির ওপর হামলার পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বৈঠকে এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে সর্বদলীয় প্রতিবাদ সভা করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তার আলোকে আজ অনুষ্ঠিত সমাবেশে জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণেরা যোগ দেন।
নির্বাচনের আগে ১০ ডিসেম্বর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব ছেড়ে আসা মাহফুজ আলমকে আজই প্রথম কোনো প্রকাশ্য সভায় দেখা গেল। তিনি দেশের সামনে ‘সংকটময়’ পরিস্থিতি আসার শঙ্কা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। মাহফুজ আলম বলেন, ‘৫ আগস্টের পর যখন মুজিববাদীদের, আওয়ামী লীগ ও ১৪–দলীয় সন্ত্রাসীদের প্রতিটি বাড়ি চুরমার করে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল, সেদিন আমরা নিজেদের সংবরণ করেছিলাম বলে আজকে তারা এই সাহস পাচ্ছে। আমরা ক্ষমা করে যদি ভুল করে থাকি, তাহলে আমরা প্রতিজ্ঞা নেব, আমরা আর ক্ষমা করব না।’
বাংলাদেশে থেকে যারা ভারত ও ভিনদেশিদের স্বার্থ রক্ষা করবে, তাদেরও নিরাপদ থাকতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের ভেতরের রাজনৈতিক লড়াইকে যারা বাইরে নিয়ে গেছে, তাদের হুঁশিয়ার করে দিতে চাই যে যদি দেশের লড়াই দেশের বাইরে যায়, তাহলে মুক্তির লড়াইও এ দেশের বাইরে যাবে। আমরা যদি নিরাপদ না থাকি, এই দেশে আমাদের শত্রুরাও নিরাপদে থাকতে পারবে না। এটা হচ্ছে বেসিক কন্ডিশন।’ গত বছর অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার সে দেশে বসে বক্তব্য–বিবৃতির দিকে ইঙ্গিত করে মাহফুজ আলম বলেন, ‘ভারত থেকে আপনারা সন্ত্রাসের উসকানি দেবেন, সন্ত্রাস চালাবেন, আমার ভাইয়ের ওপর গুলি চালাবেন—এটা আমরা বরদাশত করব না।’
জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পক্ষে জেলায় জেলায় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, জুলাইয়ের শক্তি গঠনমূলকভাবে শক্তিশালী হলে বিভিন্ন লড়াই মোকাবিলা করা সহজ হবে।
ওসমান হাদিকে গুলি করার মাধ্যমে জুলাই বিপ্লব ও বাংলাদেশকে আক্রান্ত করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক।



