বিজয়ের মাস ঢাকায় ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা যোদ্ধারা একত্রিত হয়েছেন। তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার শপথ নিয়েছেন।
শনিবার ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গেরিলা যোদ্ধাদের এই মিলনমেলায় এই বাহিনীর জীবিত সদস্যদের পাশাপাশি শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। দিনভর এই আয়োজন করে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন বিশেষ গেরিলা বাহিনী সমন্বয় কমিটি।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের সদস্যরা আলাদা গেরিলা বাহিনী গঠন করে অংশ নিয়েছিলেন। কমিউনিস্ট পার্টির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফরহাদের নেতৃত্বে কয়েক হাজার গেরিলা যোদ্ধার এই বাহিনী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়।
স্বাধীনতার পর এই গেরিলা বাহিনীর সদস্যরা মোহাম্মদ ফরহাদের নেতৃত্বে অস্ত্র সমর্পণ করেছিলেন। দেড় যুগ আগে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর মুক্তিযোদ্ধাদের যে তালিকা করেছিল, তাতে এই বাহিনীর সদস্যদের রাখা হয়নি। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর সদস্যদের মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
শহীদ মিনারে মিলনমেলার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি এই গেরিলা বাহিনীর সদস্য ছিলেন, স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত প্রথম ডাকসু নির্বাচনে ভিপি হয়েছিলেন তিনি।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের ৫৪ বছর অতিক্রান্ত হতে চলেছে। ঐতিহাসিক সেই সময়ের জনযুদ্ধ কেবল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সেনা-মুক্তিবাহিনীর একক সাফল্য ছিল না; এটি ছিল সর্বজনীন জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, ত্যাগ ও আত্মত্যাগে গড়ে ওঠা সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগ্রাম।
গণমানুষের ত্যাগ এবং নেতা ও দলের সমন্বিত নেতৃত্বকেই মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মূল চালিকা শক্তি অভিহিত করে মুজাহিদুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাশাপাশি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, কমরেড মণি সিংহ, অধ্যাপক মোজাফফর আহম্মদ, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো নেতাদের অবদান স্মরণ করেন।
একাত্তরে সোভিয়েত ইউনিয়ন, ভারতসহ গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মুক্তিযুদ্ধের সমর্থনে দাঁড়ানোর কথাও স্মরণ করেন মুজাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, তাদের কারণেই আমেরিকার সামরিক হস্তক্ষেপ রোধ করা সম্ভব হয়েছিল।
ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার শপথ নিয়েছেন। তাঁরা দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার জন্য সবাইকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার শপথ নিয়েছেন। তাঁরা দেশের মানুষের মঙ্গলের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
মুক্তিযুদ্ধের



