থাইল্যান্ড ও ক্যাম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জানিয়েছেন, তাদের দেশ ক্যাম্বোডিয়ার সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেনি। তিনি বলেছেন, থাই সেনাবাহিনী সীমান্তে লড়াই চালিয়ে যাবে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এই দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতা করছেন। তিনি বলেছেন, দুই দেশকে শনিবার সন্ধ্যা থেকে সংঘর্ষ বন্ধ করা উচিত। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার রাতে দাবি করেছেন, তিনি থাইল্যান্ড ও ক্যাম্বোডিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করাতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু এই দাবির পরেও সংঘর্ষ চলতে থাকে।
থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুরসান্ত কংসিরি জানিয়েছেন, শনিবার চং আন মা এলাকায় চার সেনা নিহত হয়েছে। এতে মোট নিহত সেনার সংখ্যা ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। ক্যাম্বোডিয়া এই সংঘর্ষে কোনো হতাহতের কথা জানায়নি।
ছয় দিনের সংঘর্ষে দুই দেশের মোট ২০ জন নিহত হয়েছে। এছাড়াও ২০০ জন আহত হয়েছে। থাইল্যান্ড-ক্যাম্বোডিয়া সীমান্তে প্রায় ৬০০,০০০ জন উদ্বাস্তু হয়েছে। এই সংঘর্ষ শুরু হয়েছে কয়েকশো বছর আগে নির্মিত মন্দিরগুলোর মালিকানা নিয়ে।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল শনিবার সকালে ফেসবুকে একটি পোস্টে বলেছেন, থাইল্যান্ড তার জমি ও জনগণের নিরাপত্তার জন্য সংঘর্ষ চালিয়ে যাবে। তিনি বলেছেন, থাইল্যান্ড ক্যাম্বোডিয়ার সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেনি।
ক্যাম্বোডিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার একটি বিবৃতিতে বলেছে, থাইল্যান্ড তাদের দেশে বোমা ফেলতে থাকবে। ক্যাম্বোডিয়া জানিয়েছে, থাইল্যান্ড তাদের দেশে দুটি এফ-১৬ যোদ্ধা বিমান পাঠিয়েছে। এই বিমানগুলো ক্যাম্বোডিয়ার বিভিন্ন স্থানে বোমা ফেলেছে।
এই সংঘর্ষ থাইল্যান্ড ও ক্যাম্বোডিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। এই সংঘর্ষের জন্য দুই দেশের নেতাদের দায়ী করা হচ্ছে।
থাইল্যান্ড ও ক্যাম্বোডিয়ার মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা দুই দেশকে সংঘর্ষ বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সংঘর্ষ থামানোর কোনো ইতিবাচক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।



