বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি নতুন মোড় ঘটেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
আখতারুজ্জামান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তিনি প্রাথমিক সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করে জামায়াতের আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি নতুন মোড় ঘটাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আখতারুজ্জামান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী একটি দেশপ্রেমিক দল। তিনি বলেছেন, বিএনপির কথার ঠিক নেই। তারা বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে। কিন্তু এটি সঠিক নয়। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে, জামায়াতের বিরুদ্ধে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেনি।
আখতারুজ্জামান বলেছেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন কারণ জামায়াত তো দেশদ্রোহী কোনো দল নয়। জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করে এবং তাদের যে গঠনতন্ত্র আছে, সেখানেও এটা স্পষ্টভাবে লেখা আছে। তিনি বলেছেন, গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের রোষানলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে জামায়াত। তাদের নেতাদেরকে ফাঁসিতেও ঝুলিয়েছেন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা।
আখতারুজ্জামান বলেছেন, বিএনপি যেমন নির্যাতিত হয়েছে, নিপীড়ন ভোগ করেছে, মাইর খাইছে, মামলা-মোকদ্দমা খাইছে; অনুরূপভাবে জামায়াতেও খাইছে, নির্যাতিত, নিষ্পেষিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, ৫ অগাস্টের পরে এখন যেখানে ফ্যাসিস্ট বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে চলার কথা, ঐক্যের রাজনীতি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা; সেখানে দেখা গেল—বিভক্তির রাজনীতির সূচনা করল বিএনপি।
আখতারুজ্জামানের জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি নতুন মোড় ঘটাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হতে পারে।



