বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে কৃষি ঋণের বকেয়া টাকা ২২,১২০ কোটি পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮৮ শতাংশ বেশি। এই বকেয়া ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকার পেছনে সরকারি মালিকানাধীন বিশেষায়িত ব্যাংক, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং সরকারি মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।
এছাড়াও, এপ্রিল ২০২৫ থেকে কার্যকর ঋণ শ্রেণীবিভাগের নতুন মানদণ্ডও বকেয়া ঋণের পরিমাণ বাড়তে অবদান রেখেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে যে এই বকেয়া ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি ঋণ আদায়ের উদ্বেগ এবং এই খাতে আরও কঠোর তত্ত্বাবধান ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ইঙ্গিত দেয়।
সেপ্টেম্বর মাসের শেষে, কৃষি ঋণের মোট বাকি টাকা ৫৯,৫০০ কোটি ছিল, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। গ্রামীণ ব্যাংক এবং ১০টি বড় এনজিও সম্মিলিতভাবে সেপ্টেম্বর মাসে টাকা ১৮,৪৬৪ কোটি মাইক্রোক্রেডিট বিতরণ করেছে, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। এছাড়াও, তাদের মাইক্রোক্রেডিটের মোট বাকি টাকা ১২৩,০০৬ কোটি, যার মধ্যে বকেয়া ঋণের পরিমাণ টাকা ৮,৩৮৩ কোটি, যা মোট বাকির প্রায় ৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে যে মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বকেয়া ঋণের পরিমাণ বাড়তে থাকার পেছনে ঋণগ্রহীতাদের অনিয়মিত আচরণ এবং বন্যা ও বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার খরচের কারণে ঋণ পরিশোধের অসুবিধা অবদান রেখেছে। পক্ষান্তরে, পল্লি কল্যাণ সমিতির ঋণ প্রকল্পের মোট বাকি টাকা ১৩,৬৯২ কোটি, যার মধ্যে বকেয়া ঋণের পরিমাণ টাকা ১০৮ কোটি।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে যে মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণগ্রহীতাদের কষ্টের কারণে বকেয়া ঋণের পরিমাণ বেশি অনুভব করছে। এই পরিস্থিতি কৃষি খাতের ঋণ ব্যবস্থাপনা ও ঋণ আদায়ের উপর একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
কৃষি খাতের ঋণ ব্যবস্থাপনা ও ঋণ আদায়ের উপর এই পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনা করে, বাংলাদেশ ব্যাংককে এই খাতে আরও কঠোর তত্ত্বাবধান ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়াও, সরকারকে কৃষি খাতের উন্নয়নের জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সবশেষে, বলা যায় যে কৃষি খাতের ঋণ ব্যবস্থাপনা ও ঋণ আদায়ের উপর এই পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনা করে, সকল স্টেকহোল্ডারদের একসাথে কাজ করতে হবে এই খাতের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য।



