তিউনিসিয়ার একটি আদালত দেশটির প্রভাবশালী বিরোধী দলীয় নেত্রী ও ‘ফ্রি ডেসতুরিয়ান পার্টি’র সভাপতি আবির মুসিকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। তিউনিসিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের সমালোচকদের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর অভিযানের মধ্যেই আবির মুসিকে এই দণ্ড দেওয়া হয়।
শুক্রবার ঘোষিত এই রায়কে ‘অন্যায় ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেছেন মুসির আইনজীবী। রায়ের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফ্রি ডেসতুরিয়ান পার্টি জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৩ অক্টোবর থেকে আবির মুসিকে ‘ইচ্ছাকৃত ও নির্বিচারভাবে’ আটক রাখা হয়েছে।
২০১৬ সাল থেকে ফ্রি ডেসতুরিয়ান পার্টির নেতৃত্বে রয়েছেন আবির মুসি। তিনি প্রয়াত সাবেক প্রেসিডেন্ট আবিদিন বেন আলির ঘনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন। ২০১১ সালে ‘আরব বসন্ত’ গণঅভ্যুত্থানে বেন আলির পতনের মধ্য দিয়ে তিউনিসিয়ায় গণতান্ত্রিক উত্তরণ শুরু হয়েছিল।
মুসির দল বর্তমান প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদের বিরুদ্ধে একাধিক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করেছে। সাইদ ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং ২০২১ সালে নির্বাচিত সংসদ ভেঙে দিয়ে ডিক্রির মাধ্যমে শাসন শুরু করেন।
মুসির সমালোচকদের দাবি, তিনি বেন আলির শাসনামলের কর্তৃত্ববাদী রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী দলগুলো বলছে, বর্তমান সরকারও একইভাবে কর্তৃত্ববাদী পথে হাঁটছে।
প্রেসিডেন্ট কাইস সাইদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি, বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো হচ্ছে দেশকে ‘নৈরাজ্য থেকে রক্ষা করতেই’।
২০২৩ সালে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের প্রবেশপথে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন আবির মুসি। সে সময় তার বিরুদ্ধে ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে হামলার’ অভিযোগ আনা হয়।
এর আগে ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট সাইদের জারি করা ডিক্রি ৫৪-এর আওতায় ‘ভুয়া সংবাদ প্রচারের’ অভিযোগে মুসিকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা পরে আপিল করে কমানো হয়। প্রথম দফার সাজা ভোগ শেষে গত বছরের জুনে মুক্তি পেলেও একই আইনে তাকে আবারও দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মুসির সমালোচকদের দাবি, তিনি বেন আলির শাসনামলের কর্তৃত্ববাদী রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও বিরোধী দলগুলো বলছে, বর্তমান সরকারও একইভাবে কর্তৃত্ববাদী পথে হাঁটছে।
তিউনিসিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এই রায়ের ফলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিরোধী দলগুলো এই রায়কে অন্যায় ও রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে অভিহিত করেছে।
এই ঘটনার পর তিউনিসিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো এই রায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দিয়েছে।
তিউনিসিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। তারা তিউনিসিয়ার সরকারকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
তিউনিসিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। বিরোধী দলগুলো সরকারে



