বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস শরিফ ওসমান হাদির হামলার ঘটনায় দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই হামলা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ওপর একটি সুপরিকল্পিত আঘাত।
শুক্রবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় একটি জরুরি বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এই হামলার মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে বানচাল করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমরা কোন অবস্থাতেই এই ধরনের ষড়যন্ত্রকে সফল হতে দেবো না।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হামলাকারীরা যাতে কোনোভাবেই দেশ ছাড়তে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকার কারণে যারা সম্ভাব্য টার্গেটে পরিণত হয়ে থাকতে পারেন তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনকালীন যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে একটি বিশেষ হটলাইন নম্বর চালু করা হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সম্ভাব্য যেসব স্থানে অপরাধীরা লুকিয়ে থাকতে পারে সেখানে অভিযান জোরদারের সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যে করেই হোক দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাদির ওপর হামলা ও হামলার পরিকল্পনাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতোমধ্যে হামলার স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
শরিফ ওসমান হাদির অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। তার পরিবারের ইচ্ছায় ইতোমধ্যে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা কোন অবস্থাতেই এই ধরনের ষড়যন্ত্রকে সফল হতে দেবো না। আঘাত যাই আসুক, যত ঝড়-তুফান আসুক, কোনো শক্তিই আগামী নির্বাচনকে বানচাল করতে পারবে না।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা দেশের আপামর জনগণকে সাথে নিয়ে আমাদের সম্মিলিত শক্তি দিয়ে জাতির জন্য একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করব। তিনি আরও বলেন, জাতির ওপর এই ধরনের অপশক্তির আঘাত কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।



