বাংলাদেশের হাইকোর্ট বিবাহ ও তালাকনামার ডিজিটাল নিবন্ধনের নির্দেশ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারকে বিবাহ ও তালাকনামার নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজ করতে বলা হয়েছে, যাতে জালিয়াতি রোধ করা যায় এবং নিরাপদ রেকর্ড নিশ্চিত করা যায়।
একটি রিট পিটিশনের উপর রায় দিয়ে, হাইকোর্ট মন্তব্য করেছে যে বর্তমান অ্যানালগ সিস্টেমটি বিবাহ ও তালাকনামার কার্যকরভাবে যাচাই করা অসম্ভব করে তুলেছে, যা পরিবারের স্থিতিশীলতাকে ক্ষুন্ন করে এবং বিবাহের বৈধতা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করে। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আশিফ হাসানের বেঞ্চ বলেছে যে কোনো কার্যকর ডিজিটাল ডাটাবেসের অনুপস্থিতি জালিয়াতি অভ্যাসকে চালিয়ে যেতে দেয়, যা নাগরিকদের মর্যাদা ও মৌলিক অধিকারকে লঙ্ঘন করে, যা সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে সুরক্ষিত।
আদালত বলেছে যে নিবন্ধন সংক্রান্ত আইন থাকলেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি ব্যাপক, কার্যকর ও কার্যকর ডিজিটাল সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটি নির্দেশ করেছে যে এখন থেকে সমস্ত বিবাহ ও তালাকনামার তথ্য অবশ্যই ডিজিটালভাবে নিবন্ধন করতে হবে, যা সরকারি সিস্টেমের মধ্যে নিরাপদ সঞ্চয়স্থান নিশ্চিত করবে এবং নাগরিকদের, বিশেষ করে মহিলাদের, রেকর্ড সহজেই যাচাই করতে ও ডিজিটাল কপি পাওয়ার সুযোগ দেবে।
কর্তৃপক্ষকে নির্দেশাবলী বাস্তবায়ন করতে এবং যত দ্রুত সম্ভব একটি সম্মতি প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায়, একজন আইনজীবী বলেছেন যে এই সিদ্ধান্তটি পারিবারিক নিরাপত্তা, নারীর সুরক্ষা, শিশু বিবাহ প্রতিরোধ, আইনি স্বচ্ছতা এবং বিবাহ ও তালাকনামার সাথে সম্পর্কিত জালিয়াতি শেষ করার জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
একটি অধিকার সংগঠন এবং তিনজন ভুক্তভোগী ৪ মার্চ ২০২১-এ একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছিল, যেখানে বলা হয়েছিল যে বিবাহ ও তালাকনামার নিবন্ধন বর্তমান আইন অনুযায়ী এখনও প্রযুক্তিগত সহায়তা ছাড়াই একটি অ্যানালগ সিস্টেমের উপর নির্ভর করে। তারা যুক্তি দেখিয়েছিল যে একজন ব্যক্তি যে একটি এলাকায় বিবাহিত হিসেবে নিবন্ধিত, সে সহজেই অন্য একটি এলাকায় তার বিবাহিত অবস্থা গোপন করতে পারে।
এই রায়ের ফলে বাংলাদেশে বিবাহ ও তালাকনামার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। এটি নাগরিকদের জন্য তাদের বিবাহ ও তালাকনামার রেকর্ড সহজেই যাচাই করতে এবং ডিজিটাল কপি পাওয়ার সুযোগ দেবে, যা তাদের জন্য আরও সুবিধাজনক হবে।



