১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হয়। এই যুদ্ধের সূচনা ঘটে পাকিস্তানের ভারতের বেশ কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে বোমাবর্ষণ করার মাধ্যমে। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেনাবাহিনীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এই ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন।
সেদিন বিকেলে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে অবস্থানরত লেফটেন্যান্ট জেনারেল অরোরা সেনাপ্রধান জেনারেল স্যাম মানেকশের কাছ থেকে একটি টেলিফোন কল পান। জেনারেল মানেকশ তাকে জানান যে পাকিস্তান ভারতের বেশ কয়েকটি বিমানঘাঁটিতে বোমাবর্ষণ করেছে এবং এই ঘটনাটি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সূচনা ঘটায়। লেফটেন্যান্ট জেনারেল অরোরা তারপর প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে এই ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সেদিন কলকাতায় একটি জনসভায় ভাষণ দেন। ভাষণ শেষে তিনি রাজভবনে ফিরে যান এবং সেখানে রাজ্যপাল এ এন ডায়াসের সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির অগ্রগতি বিষয়ে আলোচনা করেন। এরপর তিনি শিল্পী, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের এক বৈঠকে বক্তব্য দেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল অরোরা রাজভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে সেনাপ্রধানের বার্তা পৌঁছে দেন। তবে তিনি বুঝতে পারেন যে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ইতিমধ্যেই পাকিস্তানি বিমান হামলার খবর জেনে গেছেন। তৎকালীন ভারতীয় উপসচিব ও পরে পররাষ্ট্রসচিব জে এন দীক্ষিত এই ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেছেন।
জে এন দীক্ষিত লিখেছেন, ৩ ডিসেম্বর বিকেলের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কলকাতায় তাঁর কাজ সারেন। একটি বিশেষ উড়োজাহাজে তিনি দিল্লির উদ্দেশে কলকাতা ছাড়েন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা বা সাতটায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডি পি ধর, পশ্চিমবঙ্গের দু-একজন রাজনীতিক এবং আমার ও পিটার সিনাইয়ের মতো মধ্য পর্যায়ের দুজন কর্মকর্তা, যাঁরা বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করেন।
এই ঘটনাটি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সূচনা ঘটায়। এই যুদ্ধে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। এই যুদ্ধের ফলে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। এই ঘটনা ভারত ও পাকিস্তানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।



