চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় এক ছাত্রদল কর্মী নিহত হয়েছেন। নিহত ছাত্রদল কর্মীর নাম গাজী তাহমিদ খান। তিনি বারইয়ারহাট পৌর বাজার এলাকায় ছিলেন সংঘর্ষের সময়।
বুধবার সন্ধ্যায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে ছাত্রদলের আয়োজিত মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন তাহমিদ। অনুষ্ঠান শেষে কথা-কাটাকাটির জের ধরে পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি দিদারুল আলম নিয়াজীর অনুসারীদের সঙ্গে অপর পক্ষের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন তাহমিদ। প্রথমে তাঁকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান।
জোরারগঞ্জ থানার ওসি কাজী নাজমুল হক জানান, কথা-কাটাকাটি থেকে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন আহত হন। তাদের একজন তাহমিদ পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির সাবেক সভাপতি দিদারুল আলম নিয়াজী বলেন, তাহমিদ নিয়মিত সংগঠনের কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। তবে ঘটনাটি দলীয় নয়, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে ঘটেছে।
এদিকে, মিরসরাই সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিনও বলেন, ঘটনাটি দলীয় অন্তর্কোন্দল নয়। বাজারে এক কর্মীর আচরণ নিয়ে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা নজরুল ইসলামের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, একই ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।
নিহত তাহমিদ উত্তর হিঙ্গুলী এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের জোরারগঞ্জ থানা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন মিরসরাই উপজেলা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব এবং সাম্প্রতিক সময়ে বারইয়ারহাট পৌরসভা ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানিয়েছে যে তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে।



