ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলের নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো নরওয়ের ওসলোতে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পর গ্র্যান্ড হোটেলের ব্যালকনিতে হাজির হন। মাচাদো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গোপনে নরওয়ে যাত্রা করেন এবং ২০২৪ সালের ভেনেজুয়েলার বিতর্কিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর থেকে তিনি প্রায়ই নিজেকে লুকিয়ে রাখেন। তিনি জানুয়ারিতে শেষবার জনসমক্ষে আবির্ভূত হয়েছিলেন।
ব্যালকনিতে উপস্থিত হয়ে মাচাদো তার অনুগামীদের সাথে গান গান এবং তারপর বাইরে গিয়ে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তার কন্যা আনা কোরিনা সোসা তার মায়ের পক্ষে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন। নোবেল ইনস্টিটিউট মাচাদোকে এই বছর ভেনেজুয়েলায় একটি ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ রূপান্তরের জন্য তার সংগ্রামের জন্য শান্তি পুরস্কার প্রদান করে।
মাচাদোর প্রকাশ্য আবির্ভাবের আগে এটি অনুমান করা হয়েছিল যে তিনি পুরস্কার অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। নোবেল কমিটি মাচাদোর একটি অডিও শেয়ার করেছে যেখানে তিনি বলেছেন, ‘আমি ওসলোতে আসছি, আমি পথে।’ শান্তি পুরস্কার পাওয়ার পর মাচাদো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রশংসা করেছেন, যিনি নিজেও শান্তি পুরস্কারের জন্য আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন এবং ভেনেজুয়েলার সাথে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে রয়েছেন।
বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে মার্কিন সামরিক বাহিনী ভেনেজুয়েলার উপকূলে একটি তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে। তার প্রশাসন দাবি করেছে যে জাহাজটি নিষিদ্ধ ছিল এবং একটি ‘অবৈধ তেল পরিবহন নেটওয়ার্কে’ জড়িত ছিল যা বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠনকে সমর্থন করে। ভেনেজুয়েলার সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চুরি ও জলদস্যুতার অভিযোগ এনেছে।
মাচাদোর প্রকাশ্য আবির্ভাব ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এটি দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যতের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। ভেনেজুয়েলার বিরোধীদল এবং সরকার উভয়েরই প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকট চলমান রয়েছে। মাচাদোর প্রকাশ্য আবির্ভাব এই সংকটের একটি নতুন মোড় হতে পারে। ভেনেজুয়েলার জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতির উপর নজর রাখবে।



