পশ্চিম অঞ্চলের ১৬২টি রেলস্টেশনের মধ্যে ৫৮টি বন্ধ রয়েছে। এটি জাষোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলার যাত্রীদের জন্য ব্যাপক দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভাগীয় পরিবহন অফিস জানিয়েছে, বর্তমানে মাত্র ১০৪টি স্টেশন চালু রয়েছে। জনশক্তির তীব্র ঘাটতির কারণে স্টেশনগুলো বন্ধ করা হয়েছে। ১৯৯৩ সালের ২৫শে মার্চ ইশ্বরদীতে যায়সিনপুর স্টেশন বন্ধ করা হয়। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১১ই মার্চ খুলনার মিরপুর স্টেশন বন্ধ করা হয়।
দূরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, ট্রেন চলাচল বন্ধ করার ফলে তাদের একমাত্র নির্ভরযোগ্য যাতায়াতের মাধ্যম বন্ধ হয়ে গেছে। রাস্তার সংযোগ খারাপ বা নেই বলে ট্রেনই দীর্ঘদিন ধরে ভ্রমণ ও কৃষিজাত দ্রব্য পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম ছিল। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, তারা এখন নিকটবর্তী বাজারে কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। যদি ট্রেন তাদের স্থানীয় স্টেশনে থামত, তাহলে তারা দূরবর্তী বাজারে পণ্য পরিবহন করতে পারত এবং সুদিনাম পেত।
সুন্দরপুর গ্রামের রাইহান মাস্টার বলেছেন, সুন্দরপুর, চাঁদবা, আকতারপুর, খাতালিয়া ও কালুখালীর মানুষ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি বলেছেন, কালুখালী উপজেলা সদর থেকে নিকটতম বাস রুট ১০ কিলোমিটার দূরে, যার ফলে ভ্রমণ খরচসাপেক্ষ ও সময়সাপেক্ষ। চুরামঙ্কতি-সতিয়ানতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান বলেছেন, মেহেরুল্লাহ নগর স্টেশন আবার চালু করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য এটি অনেক উপকারী হবে এবং স্থানীয়দের ভ্রমণ সহজ হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হজরত আলী বলেছেন, তিনি বাড়ি ফেরার সময় অনেক বাধা পান। তিনি বলেছেন, সুন্দরপুর স্টেশন বন্ধ থাকায় তাকে কালীগঞ্জ শহরে নামতে হয় এবং অন্য পরিবহন খুঁজে বের করতে হয়, যদি সুন্দরপুর স্টেশন খোলা থাকত, তাহলে ভ্রমণ অনেক সহজ হত।
বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা হাসিনা খাতুন বলেছেন, বন্ধ স্টেশনগুলোতে জনশক্তির তীব্র ঘাটতি রয়েছে। তিনি বলেছেন, সরকার প্রয়োজনীয় কর্মী সরবরাহ করলে স্টেশনগুলো আবার চালু করা যাবে। রেলওয়ে মহাপরিচালক মোঃ শামসুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পশ্চিম অঞ্চলের রেলস্টেশনগুলো বন্ধ থাকার ফলে যাত্রীদের ভ্রমণ খরচ বেড়ে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ায় তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা সরকারের কাছে স্টেশনগুলো আবার চালু করার দাবি জানিয়েছেন। এই বিষয়ে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করা হচ্ছে।



