বাংলাদেশের কর কাঠামোতে গত কয়েক দশক ধরে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট সরকারি রাজস্বের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে ভোক্তাদের ওপর চাপ বেড়েছে, কারণ ভ্যাট একটি পরোক্ষ কর যা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, আয়ের পরিমাণ নির্বিশেষে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে, ভ্যাট ২৭.১১ শতাংশ মোট কর আদায়ের, আয়কর ১৯.৪৪ শতাংশ এবং আমদানি শুল্ক ৫৩.৪৫ শতাংশ ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের মধ্যে, ভ্যাট ৩৮.১৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, আয়কর ৩৪.৮ শতাংশে এবং আমদানি শুল্ক ২৭.০৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
ভ্যাট ২০১১ সালে প্রথমবারের মতো আমদানি শুল্ককে ছাড়িয়ে যায়, যখন বাণিজ্য উদারীকরণের কারণে শুল্ক রাজস্ব কমে যায়। ১৯৯১ সালে প্রবর্তিত ভ্যাট কর ব্যবস্থায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনে, যা সরকারি রাজস্বকে মুদ্রাস্ফীতির সাথে আরও সংবেদনশীল করে তোলে এবং ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলোর জন্য সম্মতির চাপ বাড়ায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানি শুল্ক কমে যাওয়ার সাথে সাথে, সরকার ভ্যাটের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যার ফলে ইতিমধ্যেই উচ্চ ব্যয় বহনকারী পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ভ্যাট প্রকৃতপক্ষে পিছিয়ে পড়া কর ব্যবস্থা, যেখানে সবাই একই হারে কর প্রদান করে, আয়ের পরিমাণ নির্বিশেষে।
গবেষণা ও নীতি একীকরণের জন্য নেতৃত্ব দেয় এমন একজন বিশেষজ্ঞের মতে, সরকার ভ্যাটকে প্রাধান্য দেয় কারণ এটি পরিচালনা করা সহজ। তারা আরও বলেন, সম্ভাব্য করদাতাদের চিহ্নিত করার বা ডাটাবেস একীভূত করার প্রচেষ্টা এখনও পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য ফলাফল দেয়নি।
বাংলাদেশ ২০২৬ সালের নভেম্বরে ন্যূনতম উন্নত দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে, দেশটির কর ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করা এবং আরও ন্যায্য ও সুষ্ঠু কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এতে করে ভোক্তাদের ওপর চাপ কমানো এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।
অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্যাট আয়ের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হলে সরকারকে আয়কর ও অন্যান্য প্রত্যক্ষ করের ওপর বেশি মনোযোগ দিতে হবে। এছাড়াও, কর ব্যবস্থাকে আরও সরল ও সুষ্ঠু করার জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন করতে হবে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য একটি ন্যায্য ও সুষ্ঠু কর ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারকে এই বিষয়ে সতর্কতার সাথে এগিয়ে যেতে হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থে কাজ করতে হবে।



