অস্ট্রিয়ার আন্তর্জাতিক অস্কার প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হয়েছে ‘পিকক’ চলচ্চিত্র। এটি অস্ট্রিয়ান লেখক-পরিচালক বার্নহার্ড ওয়েঙ্গারের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। গত বছর ভেনিস সমালোচক সপ্তাহে প্রিমিয়ার হওয়ার পর থেকে এই চলচ্চিত্রটি উত্সাহের সাথে উৎসব পরিক্রমায় অংশগ্রহণ করেছে।
এই চলচ্চিত্রটি আত্ম-উপস্থাপনা এবং পরিচয়ের উপর একটি ব্যঙ্গ। এতে মাথিয়াস নামের একজন লোককে দেখা যায়, যিনি তার ক্লায়েন্টদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে পরিবর্তন করতে পারেন। তিনি একজন ভাড়া করা সঙ্গী, যিনি সহজেই বিভিন্ন ভূমিকা পালন করতে পারেন – মনোযোগী অংশীদার, কর্তব্যনিষ্ঠ ছেলে, সংস্কৃতিবান বয়ফ্রেন্ড। কিন্তু অন্যদের খুশি করার এই প্রতিভা তার জন্য একটি মূল্য দাবি করে। তার বান্ধবী, সোফিয়া, শুরু করে ভাবতে যে মাথিয়াসের আসল পরিচয় এখনও কি বাকি আছে, যা তাকে একটি অস্তিত্ববাদী সংকটের দিকে নিয়ে যায়।
পরিচালক বার্নহার্ড ওয়েঙ্গার এই চলচ্চিত্রের উদ্ভব একটি আবিষ্কারের মুহূর্তে খুঁজে পান। তিনি একটি প্রবন্ধে ভাড়া বন্ধু সংস্থাগুলি সম্পর্কে জানতে পারেন এবং জাপানে গিয়ে এই সংস্থাগুলিতে কাজ করা লোকেদের সাথে দেখা করেন। তিনি দেখতে পান যে এই সংস্থাগুলি সমাজের বিচ্ছিন্নতা এবং একাকীত্বের কারণে শুরু হয়েছিল। যারা তাদের জীবনে কাউকে নেই, তারা কাউকে ভাড়া নিতে পারে।
কিন্তু যা তার কল্পনা কেড়েছিল তা ছিল এই ভূমিকা পালনকারী লোকেরা। তিনি দেখতে পেলেন যে এই সংস্থাগুলি মানুষ তাদের জনসাধারণের চেহারা উপস্থাপন করতে ব্যবহার করে – মিথ্যা লুকানো, মানুষকে প্রতারণা করা, ক্ষমতা দেখানো। এগুলি হল কারণ যে কেন এই সংস্থাগুলি বিশ্বের প্রায় প্রতিটি সমাজে কাজ করবে। তিনি প্রধানত এই অংশের উপর ফোকাস করেছিলেন একটি চলচ্চিত্র তৈরি করতে যা সামাজিক মিডিয়ার একটি রূপক, সামাজিক মিডিয়া দেখানো ছাড়াই।
একজন ব্যক্তি যাকে তিনি ভেটেছিলেন তার একটি বাক্য তার মনে ধরে ছিল। তার অস্বাভাবিক চাকরির কারণে, যেখানে তাকে প্রতিদিন অন্য কাউকে হতে হয়, বাস্তব জীবনে তিনি আর নিজেকে কিভাবে হবেন তা জানতেন না, এবং তিনি এটি খুবই দুঃখজনক বলে মনে করেছিলেন, কিন্তু তিনি একটি ব্যঙ্গাত্মক গল্প তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
এই চলচ্চিত্রটি একটি অনন্য মিশ্রণ যা অন্ধকার ইঙ্গিত এবং মানসিক সংকটের সাথে মিশ্রিত। এটি আমাদেরকে চিন্তা করতে বাধ্য করে যে আমরা কীভাবে আমাদের জীবনকে উপস্থাপন করি এবং আমরা কীভাবে আমাদের পরিচয় গঠন করি। এটি একটি চলচ্চিত্র যা আমাদের সময়ের জন্য প্রাসঙ্গিক এবং আমাদের সমাজের একটি প্রতিফলন।
অস্ট্রিয়ার আন্তর্জাতিক অস্কার প্রতিযোগিতায় ‘পিকক’ চলচ্চিত্রটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি আমাদেরকে দেখায় যে অস্ট্রিয়ান চলচ্চিত্র শিল্প কীভাবে বিশ্বব্যাপী দর্শকদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে। এটি আমাদেরকে আশা দেয় যে অস্ট্রিয়ান চলচ্চিত্র শিল্প ভবিষ্যতে আরও সাফল্য অর্জন করবে।
সুতরাং, যদি আপনি একটি চলচ্চিত্র খুঁজছেন



