বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একজন অভিজ্ঞ ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে জয়নুল আবদিন ফারুক আজ ৭৫ বছরে পা রেখেছেন। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সংসদ রাজনীতি, আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-জট এবং দলের কঠিন সময়ে নেতৃত্ব—সব মিলিয়ে পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় এক লড়াকু রাজনীতিক তিনি।
জয়নুল আবদিন ফারুক ১৯৪৯ সালের ১০ ডিসেম্বর নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব-কৈশোরেই সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন তিনি। দেশপ্রেমে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৭১ সালে অংশ নেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। যুবক বয়সেই নেতৃত্ব ও সাহসিকতার পরিচয় তার রাজনৈতিক পথচলার ভিত্তি গড়ে দেয়।
স্বাধীনতার পর ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ফারুক। বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দলটির জনভিত্তি তৈরি, সাংগঠনিক বিস্তার এবং মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে তিনি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।
জয়নুল আবদিন ফারুকের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল অংশ তার ধারাবাহিক সংসদ সদস্য হওয়া। তিনি ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম, ২০০১ সালের অষ্টম এবং ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিজয়ী হয়ে আইন প্রণয়ন ও সংসদীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।
সংসদে তার তীক্ষ্ণ বক্তব্য, যুক্তি ও দলীয় অবস্থান তুলে ধরার আপোষহীন ভূমিকাই তাকে পরিচিত করে শক্তিশালী বিরোধী কণ্ঠ হিসেবে। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সংসদে গণতন্ত্র, নির্বাচন, মানবাধিকার ও জনগণের বিভিন্ন ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থান নেন।
জয়নুল আবদিন ফারুকের রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হবে। তার নেতৃত্ব ও সাহসিকতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি অম্লান ছাপ রেখে গেছে।
জয়নুল আবদিন ফারুকের ৭৫তম জন্মদিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। তার রাজনৈতিক জীবন ও অবদান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।



