ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তারা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত। এই বক্তব্য তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সাক্ষাৎকারের পরে দিয়েছেন, যেখানে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নির্বাচন এড়িয়ে যাচ্ছে।
জেলেনস্কির পাঁচ বছরের প্রেসিডেন্ট মেয়াদ ২০২৪ সালের মে মাসে শেষ হবে। কিন্তু রাশিয়ার আক্রমণের পর থেকে ইউক্রেনে মার্শাল আইন জারি করা হয়েছে এবং নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত হতে চান, কিন্তু তার জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা চায় যে ইউক্রেনে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। ট্রাম্পও একই দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনের নেতারা নির্বাচন এড়িয়ে যাচ্ছেন, কারণ তারা জানেন যে তারা নির্বাচনে হারবেন।
ইউক্রেনের একজন বিরোধী দলের সাংসদ বলেছেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে, কিন্তু তার জন্য সকল ইউক্রেনীয়দের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। তিনি বলেছেন, যুদ্ধের সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা সম্ভব নয়।
ইউক্রেনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেনের সরকার, বিরোধী দল এবং জনগণ সকলেই একমত যে যুদ্ধের সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা উচিত নয়।
ইউক্রেনের একটি জনমত জানার পরিষদ মার্চ মাসে একটি জরিপ করেছে, যেখানে দেখা গেছে যে ৭৮% লোক যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিরোধী। এই জরিপটি ইউক্রেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।
ইউক্রেনের ভবিষ্যতের রাজনৈতিক দৃশ্যপট নিয়ে অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিন্তু একটি বিষয় নিশ্চিত যে ইউক্রেনের জনগণ তাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য উত্সুক। তারা চায় যে তাদের দেশ শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে পাক।
ইউক্রেনের রাজনৈতিক সংকট সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের উচিত ইউক্রেনের জনগণের সাথে একত্রে কাজ করা এবং তাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য সহায়তা প্রদান করা। ইউক্রেনের জনগণ তাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী এবং তারা চায় যে তাদের দেশ শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে পাক।



