আজ ১০ ডিসেম্বর সারা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস। এই দিনটি উপলক্ষ্যে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন, মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশ ২০০৯ সালে একটি কমিশন গঠন করলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে সেটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।
জিএএনএইচআরআই সংস্থাটি ১৯৯৮ সাল থেকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সূচক প্রণয়ন করে আসছে। ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন শুরু হয়। তখন থেকেই কমিশনটি ‘বি’ ক্যাটাগরিতে আটকে আছে।
মানবাধিকারকর্মী ও গবেষক মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেছেন, জাতিসংঘের মানদণ্ডে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ কমিশন সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় গণতান্ত্রিক জবাবদিহির অভাব।
নেপালের মানবাধিকার পরিস্থিতি বাংলাদেশের থেকে ভালো। মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেছেন, নেপালে পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচন করে এবং প্রার্থীদের সংসদে বক্তব্য দিতে হয়। স্বচ্ছতার এই প্রক্রিয়াই তাদের এগিয়ে রেখেছে, যা বাংলাদেশে অনুপস্থিত।
২০১৭ সালে বাংলাদেশে ‘আয়নাঘর’ সংস্কৃতির বিস্তার ঘটে। সেই সময় ৮৬ জন গুমের শিকার হন। ২০১৮ সালে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে সর্বোচ্চ ৪৬৬ জনকে বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হয়। ২০২১ সালে র্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর এই সংখ্যা কমে আসে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ৮৭৫ জন (ভিন্নমতে ১ হাজার ৫০০-এর বেশি) নিহত হন।
বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নতির জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। মানবাধিকার কমিশনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। এই আলোচনার মাধ্যমে মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারকে সচেতন করা যাবে। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো রোধ করা সম্ভব হবে।
মানবাধিকার দিবস পালনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নতির জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকার, বেসরকারি সংস্থা এবং সাধারণ মানুষকে সমন্বিত প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। এই প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নতি সাধন সম্ভব হবে।



