নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেট বিশ্বে একটি নতুন ধারার সূচনা হতে যাচ্ছে। দেশটির নিজস্ব একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগ চালু হবে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘এনজেড২০’। এই লিগের মাধ্যমে নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা তাদের দেশেই একটি বড় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
নিউ জিল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক টম ল্যাথাম এই লিগের সম্ভাবনা নিয়ে খুবই উচ্ছ্বসিত। তিনি বিশ্বাস করেন যে এই লিগটি নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এই লিগের মূল উদ্যোক্তা হলেন নিউ জিল্যান্ডের বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটাররা। তাদের মধ্যে অগ্রণী সাবেক অধিনায়ক ও আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংসের দীর্ঘদিনের সফল কোচ স্টিভেন ফ্লেমিং।
এনজেড২০ এস্টাবলিশমেন্ট কমিটিও গঠন করা হয়েছে, যেটির প্রধান ডন ম্যাককিনন। তার নেতৃত্বেই এখন এগিয়ে চলছে কাজ। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে ছেলেদের টুর্নামেন্ট চালুর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন তারা, ওই বছরের শেষ দিকে মাঠে গড়াতে চান মেয়েদের আসর। অনেকটা ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের পদ্ধতিতেই হবে এই লিগ, যেখানে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটের অনুমোদন থাকবে, তবে টুর্নামেন্ট পরিচালিত হবে স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে।
ছয় দল নিয়ে হবে টুর্নামেন্ট, বিলুপ্ত হয়ে যাবে এখনকার সুপার স্ম্যাশ। নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটের অনুমতি অবশ্য এখনও মেলেনি। তবে সবকিছু গুছিয়ে নিলে অনুমতি পাওয়াটা হয়ে উঠবে স্রেফ আনুষ্ঠানিকতার ব্যাপার। ২০১৪ সালেও একবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল নিউ জিল্যান্ডে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট চালু করার। তবে আইপিএল বা বিগ ব্যাশের মতো বাজার গড়া সম্ভব নয় এবং আর্থিক দিক থেকে লাভজনক হওয়া নিয়ে সংশয়ে সেটি আর এগোয়নি।
এস্টাবলিশমেন্ট কমিটির প্রধান ম্যাককিননের মতে, সময়টা এখন এসে গেছে। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান টম ল্যাথামের টি-টোয়েন্টি রেকর্ড দারুণ সমৃদ্ধ। কিন্তু ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট ছাড়া কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ তিনি এখনও পাননি। অনেক উঠতি ও সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারও আছেন এমন। এনজেড২০ লিগটি নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটের জন্য একটি নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেট ভক্তরা এই লিগের জন্য উত্তেজনায় আছেন। তারা আশা করছেন যে এই লিগটি নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এনজেড২০ লিগটি নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এই লিগটি নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের জন্য একটি নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেট ভক্তদের জন্য একটি নতুন আনন্দের সৃষ্টি করবে।



