বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় বিদেশি প্রভাব বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছে ‘স্টুডেন্টস ফর সভরেইনটি’ নামের একটি শিক্ষার্থী সংগঠন। সংগঠনটি বলেছে, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টা বিদেশি বন্দর পরিচালনাকারীদের বিপণন কর্মকর্তাদের মতো আচরণ করছেন।
সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, দেশি প্রতিষ্ঠান ও চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়োজিত অপারেটরদের দুর্নাম করা এবং বিদেশি পোর্ট অপারেটরের প্রশংসা করাই যেন বিডার ও নৌপরিবহন উপদেষ্টাদের মূল কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁরা সতর্ক করেছেন, বন্দরকেন্দ্রিক দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের উৎস চিহ্নিত না করে বিদেশি অপারেটরদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া দেশের স্বার্থে ক্ষতিকর।
সংগঠনটি দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনার বিকেন্দ্রীকরণ, নতুন নদী ও সমুদ্রবন্দর তৈরির উদ্যোগ এবং রেল সংযোগসহ উন্নত অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা জানিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ‘দেশের নানা প্রান্তে বন্দর উন্নয়ন করলে শিল্প, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে।’
স্টুডেন্টস ফর সভরেইনটি বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বন্দর ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণের আহবান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন শেষ করেছে।
এদিকে, বিভিন্ন বন্দরে বিদেশি অপারেটরদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে সংগঠনটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাঁরা বলেছেন, বিদেশি কম্পানিকে বন্দর পরিচালনার ভার দিলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাঁরা উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে প্রতি কনটেইনার থেকে প্রাপ্ত প্রায় ১১৯ ডলার সরকারের রিজার্ভে যুক্ত হয়, তবে লালদিয়ার চর থেকে এপিএম টার্মিনালস পরিচালিত হলে প্রতি কনটেইনার থেকে সরকার পাবে মাত্র ২১ ডলার।
সংগঠনটি বলেছে, বিদেশি অপারেটরের অন্যায় ট্যারিফ বৃদ্ধির ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নিত্যপণ্যের মূল্যও বাড়তে পারে। তাঁরা সতর্ক করেছেন, বন্দরকেন্দ্রিক দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অনিয়মের উৎস চিহ্নিত না করে বিদেশি অপারেটরদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া দেশের স্বার্থে ক্ষতিকর।



