ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থসংস্থান সহজ করার লক্ষ্যে একটি নতুন ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক অধ্যাদেশ-২০২৫ প্রণয়ন করেছে এবং এটি বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যাংকটি একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হবে। বিনিয়োগকারীদের কাছে লভ্যাংশ প্রদান তাদের বিনিয়োগের পরিমাণের বেশি হবে না, যা নির্দেশ করে যে মুনাফা প্রাথমিক উদ্দেশ্য হবে না। ব্যাংকটির সর্বোচ্চ অনুমোদিত মূলধন হবে ৩০০ কোটি টাকা। প্রাথমিক পরিশোধিত মূলধন, যা শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে শেয়ার জারির জন্য প্রাপ্ত অর্থ, ১০০ কোটি টাকা হবে। ঋণগ্রহীতা-শেয়ারহোল্ডাররা এই পরিমাণের কমপক্ষে ৬০ শতাংশ প্রদান করবে, বাকি অংশ অন্যান্য শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে আসবে।
ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান উভয়ই শর্ত পূরণ করলে শেয়ারহোল্ডার হতে পারবে। অনুমোদিত মূলধনকে তিন কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত করা হবে, প্রতিটির মুখ্য মূল্য ১০০ টাকা। মাইক্রোক্রেডিট নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (এমআরএ) অধীনে একটি পৃথক বিভাগ লাইসেন্স প্রদান এবং কার্যক্রম তদারকি করবে। একজন প্রধান নির্বাহী এই বিভাগের নেতৃত্ব দেবেন।
এপ্রিল মাসে, প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস সামাজিক ব্যবসা মডেলের উপর ভিত্তি করে একটি বিশেষায়িত মাইক্রোক্রেডিট ব্যাংক গঠনের প্রস্তাব করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে এটি ঐতিহ্যগত ব্যাংকগুলি থেকে আলাদা হবে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এমআরএ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করার সময়, তিনি মাইক্রোফাইন্যান্সের জন্য একটি নতুন পদ্ধতির আহ্বান জানান এবং বলেছিলেন যে মাইক্রোক্রেডিট সংস্থাগুলি এনজিও-শৈলীর কার্যক্রম থেকে দূরে সরে যাবে এবং এমআরএ বা অন্য কোনও নিয়ন্ত্রক সংস্থার তত্ত্বাবধানে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকে বিকশিত হবে।
এই উদ্যোগের ফলে ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থসংস্থান সহজ হবে এবং তারা তাদের ব্যবসা প্রসারিত করতে সক্ষম হবে। এটি দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এই প্রকল্পটি সফল হলে, এটি অন্যান্য দেশেও অনুসরণ করা যেতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।
এই প্রকল্পের সাফল্য নিশ্চিত করার জন্য, সরকারকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এবং সমর্থন প্রদান করতে হবে। এছাড়াও, ব্যাংকটির কার্যক্রম তদারকি করার জন্য একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন। এই উদ্যোগটি সফল হলে, এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।
সবশেষে, এই প্রকল্পটি ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য একটি নতুন সুযোগ তৈরি করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে। এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে এবং দেশটির অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি করবে।



