বাংলাদেশে কারাবন্দি চার সাংবাদিককে মুক্তি দিতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংগঠন দ্য কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট (সিপিজে)। সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা অলাভজনক এই সংগঠনটি গত ৮ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি দিয়েছে।
সিপিজের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় পরিচালক বেহ লি ইয়ি প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি লিখেছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, সিপিজের কাছে থাকা তথ্য-উপাত্ত অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে চারজন সাংবাদিক কারাবন্দি আছেন। এদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য প্রমাণের ঘাটতি রয়েছে।
সিপিজে যে চার সাংবাদিকের কথা বলেছেন, তাঁরা হলেন—শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু, ফারজানা রূপা ও শাকিল আহমেদ। চিঠিতে প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করা বলা হয়, ৮ আগস্ট আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এই চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এই সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যরা কাশিমপুর কারাগারের যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা গুরুতর মানবাধিকারের উদ্বেগ তৈরি করে। তাঁরা ৩৬ বর্গফুট (৩ দশমিক ৩৪ বর্গমিটার) আকারের অত্যন্ত ছোট কক্ষে বন্দি আছেন। কক্ষগুলোতে দরজার পরিবর্তে ধাতব বেষ্টনী দেওয়া। যার কারণে তাঁদেরকে ঠান্ডা আবহাওয়ার মধ্যে থাকতে হয়, সঙ্গে মশার উপদ্রবও রয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, কারাগারের চিকিৎসাসেবাও অপর্যাপ্ত। কারাগারে স্থায়ী কোনো চিকিৎসক নেই, নিয়মিত পরীক্ষার সুবিধা নেই। আর পরিবার সরবরাহ না করলে বন্দিরা কোনো ওষুধ পান না। যাঁরা ক্যানসার, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ এবং স্লিপ অ্যাপনিয়ার (ঘুমের সময় শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা) মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের কয়েক মাস ধরে কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।
সিপিজে এই সাংবাদিকদের মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন চাইছে। সংগঠনটি বাংলাদেশ সরকারকে এই সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে আহ্বান জানিয়েছে। সিপিজে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার জন্য সিপিজের এই আহ্বান গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা করা গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য অপরিহার্য। সিপিজের এই আহ্বানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন পাওয়া উচিত।



