সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা বৈশ্বিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ)-এর বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা তিন বছর ধরে সাংবাদিক হত্যার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইসরায়েল। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর বিশ্বজুড়ে ৬৭ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
প্যারিস ভিত্তিক সংগঠনটি তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নিহতদের ৪৩ শতাংশই ইসরায়েলি সেনার হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এ কারণে আরএসএফ ইসরায়েলকে ‘সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় শত্রু’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
এই বছর সাংবাদিকদের ওপর হামলার সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটেছে ২৫ আগস্ট। গাজার দক্ষিণাঞ্চলের একটি হাসপাতালে ইসরায়েলি সেনার হামলায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও এপির দুই সাংবাদিকসহ মোট পাঁচ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় গণহত্যামূলক হামলা শুরুর পর সব মিলিয়ে ২২০ সাংবাদিক ইসরায়েলি সেনার হাতে প্রাণ দিয়েছেন। এখনও ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কড়া প্রহরা ছাড়া বিদেশি সাংবাদিকদের গাজায় যাওয়ার অনুমতি নেই।
ইসরায়েলের পরের অবস্থানে আছে মেক্সিকো। ২০২৫ সালে গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক নিহত হন। বামপন্থি প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবম সাংবাদিকদের সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও চলতি বছরে নয় জন সাংবাদিক নিহত হন।
তালিকার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দেশ ইউক্রেন ও সুদান। দেশ দুটিতে যথাক্রমে তিন ও চারজন সাংবাদিক নিহত হন।
২০১২ সালে একক বছর হিসেবে সর্বোচ্চ ১৪২ সাংবাদিক নিহত হন। ওই বছর সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ এই অস্বাভাবিক সংখ্যার জন্য মূলত দায়ী।
এই প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায়, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সাংবাদিকদের হত্যা বন্ধ করতে এবং তাদের অধিকার রক্ষায় সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।



