দুর্নীতি দমন কমিশনের অভ্যন্তরে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই বছর পর্যন্ত ছয়জন কর্মকর্তা বহিস্কার হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন সেপ্টেম্বর মাসে বহিস্কৃত হয়েছেন। গত ১৭ বছরে কমিশন ২৪৫ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
এই ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে ৩৪ জনকে বহিস্কার করা হয়েছে, অনেকেকে অবসর নিতে বাধ্য করা হয়েছে বা পদান্নতি বা বেতন কমানো হয়েছে। বর্তমানে ১০ জনের বেশি কর্মকর্তা বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি। আজকের দিনে, যখন দুর্নীতি দমন কমিশন আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালন করছে, তখন নিজেদের সততার উপর ছায়া পড়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন নিজেদের কর্মকর্তাদের দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই ধরনের অভিযোগ উঠলে তারা তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু সমর্থকরা বলছেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তাদেরও অন্যান্য অভিযুক্তদের মতোই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের প্রধান ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, শুধু বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি বলেছেন, দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বহিস্কার করা যথেষ্ট নয়, তাদের বিচার করতে হবে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন পরিচালককে সেপ্টেম্বর মাসে বহিস্কার করা হয়েছে। তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চিকিৎসা খরচ গ্রহণ করার জন্য। এই ঘটনাটি দুর্নীতি দমন কমিশনের সততার উপর প্রশ্নচিহ্ন তুলেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সকল ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কিন্তু সমর্থকরা বলছেন, শুধু বচন নয়, কাজ দেখাতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, তাহলেই দুর্নীতি দমন কমিশনের সততা প্রতিষ্ঠিত হবে।



