বরিশাল নগরীর একটি ফ্ল্যাটে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এশিয়ান টিভির বরিশাল ব্যুরোর সাংবাদিক ফিরোজ মোস্তফা গোড়াচাঁদ দাশ রোডের ‘আল জামিয়া মাদ্রাসা’ ভবনের দ্বিতীয় তলায় তার ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, গুরুতর আহত ফিরোজ মোস্তফাকে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগের মুখে থাকা আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল নাভিদ আনজুমকে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আহত সাংবাদিক ফিরোজ মোস্তফা বলেছেন, খেলোয়াড় পরিচয়ে নাভিদ আনজুম দীর্ঘদিন আগে তার সঙ্গে সখ্যতা গড়েন। পরবর্তীতে নাভিদ মাদক সেবন ও অনলাইন ক্যাসিনো চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। এরপর হঠাৎ করে নাভিদ তার ই-মেইল আইডি হ্যাক হওয়ার জন্য তাকে দায়ি করে।
ফিরোজ মোস্তফার অভিযোগ, সেদিনই রাতে থানায় মামলা করতে যান। কিন্তু পুলিশ সদস্য হওয়ার কারণে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান নাভিদের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি। এ কারণে ৩ নভেম্বর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
ফিরোজ বলেছেন, এর ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে কনস্টেবল নাভিদ তার বাসায় ঢুকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। এক পর্যায়ে তাকে রুমের মধ্যে রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে পালিয়ে যান। নিজেকে বাঁচাতে ৯৯৯-এ ফোন করে সহযোগিতা চান। পরে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
মামলা না নেওয়ার প্রসঙ্গে কোতোয়ালি মডেল থানার সাবেক ওসি মিজানুর রহমান বলেছেন, বদলি হয়েছি। এখন এ বিষয়ে কোনো কথা বলবো না। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেছেন, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ওই সাংবাদিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আমি এখানে নতুন এসেছি। তাদের মধ্যে পূর্বে কোনো বিরোধ ছিলো কি-না আমার জানা নেই।
এই ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল নাভিদ আনজুমকে আপাতত ফাঁড়ির ইনচার্জের জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে। আর আহত সাংবাদিক ফিরোজ মোস্তফা সুস্থ হয়ে হামলার ঘটনায় মামলা করার কথা জানিয়েছেন।



