থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সীমান্তে সংঘর্ষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিভাগের মহাপরিচালক নিকোরন্দেজ বালানকুরা জানিয়েছেন, থাইল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত সীমান্তবর্তী এলাকায় লড়াই চলবে।
সোমবার থাইল্যান্ডের বিমান বাহিনী কম্বোডিয়ার সেনা স্থাপনা ও সেনবাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এতে কম্বোডিয়ার চার জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বের সি সা কেট ও উবন রাচাথানি প্রদেশেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া উভয় দেশই সহিংসতার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে। জুলাইয়ে যুদ্ধবিরতির পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধরনের সংঘর্ষ। মধ্যস্থতার মাধ্যমে ওই সমঝোতা চুক্তি করতে সাহায্যকারী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সতর্ক করে বলেছেন, নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হলে ‘দশক ধরে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার জন্য নেওয়া সূক্ষ্ম কৌশল ভেঙে পড়তে পারে’।
থাইল্যান্ডের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিরোধপূর্ণ সীমান্তে গোলাগুলির সময় একজন থাই সেনা নিহত হওয়ার পর দেশটির বিমানবাহিনী কম্বোডিয়ার সামরিক অবস্থানগুলোতে বোমা হামলা চালিয়েছে। থাইল্যান্ডের বিমান বাহিনীর সমস্ত অভিযান সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ এবং সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল যাতে বেসামরিক জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
সীমান্তবর্তী এলাকার হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ স্থানত্যাগ করছে। সংঘর্ষ বাড়ার পর সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া উভয় দেশই সহিংসতা বন্ধ করার জন্য প্রস্তুত নয়। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া সংঘর্ষের পরিণতি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর পড়বে। দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ বৃদ্ধি পালে তবে এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত দুই দেশকে সহিংসতা বন্ধ করার জন্য উত্সাহিত করা।



