বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে তিনটি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। উচ্চ সুদের হার, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং কর্মসংস্থানের সংকট – এই তিনটি চ্যালেঞ্জ অর্থনীতিকে কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কাঠামোগত দুর্বলতার পরিণতিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরুতে যে অর্থনৈতিক শ্লথগতি দেখা দিয়েছিল, তার রেশ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। সামপ্রতিক তথ্য বলছে, সামষ্টিক অর্থনীতির কিছু সূচকে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা গেলেও বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে স্পষ্টভাবেই।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) বার্ষিক প্রকাশনা বাংলাদেশ স্টেট অব দ্য ইকোনমিতে এই চিত্র উঠে এসেছে। বইটিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের অর্থনীতির হালচিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে আসে মাত্র ২ শতাংশে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বাজারে স্থবিরতার প্রভাব সরাসরি পড়ে শিল্প ও সেবা খাতে। একই সময় কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ০.৭৬ শতাংশ, শিল্পে ২.৪৪ শতাংশ এবং সেবায় ২.৪১ শতাংশ।
তবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রান্তিক থেকে অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি দ্বিতীয় প্রান্তিকে লাফ দিয়ে ৭.১ শতাংশে উঠে আসে, তৃতীয় প্রান্তিকে তা ছিল ৬.৯১ শতাংশ। সার্বিকভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধিও তৃতীয় প্রান্তিকে বেড়ে দাঁড়ায় ৪.৯ শতাংশে।
তবু এই পুনরুদ্ধারের পেছনে থাকা গতি এখনো টেকসই নয় বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। বিশেষ করে বিনিয়োগ খাতে উচ্চ সুদের চাপ অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এই বিনিয়োগ সংকোচনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিল্প উৎপাদনে। শিল্প উৎপাদন সূচক অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিল্প খাতের মোট প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৪.৩ শতাংশ। যদিও অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসে যথাক্রমে ১১.৩৯ ও ১০.৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, আগস্ট মাসে শিল্প উৎপাদন আবার নেতিবাচক হয়ে যায়।
অর্থনীতির এই পরিস্থিতি বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং সময়। তারা বলছেন, সরকারকে অবশ্যই বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তারা বলছেন, সরকারকে অবশ্যই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করতে হবে এবং অর্থনীতির টেকসই বৃদ্ধির জন্য কাজ করতে হবে।
অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে, বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। তারা বলছেন, সরকারকে অবশ্যই অর্থনীতির বৃদ্ধির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে।



