ঢাকার রাস্তায় নিয়ম মানতে হয় না বলে সবাই জানে। এটা একটা ব্যবস্থা যেখানে নিয়ম মানার চেয়ে টাকার বিনিময়ে সবকিছু হয়। এই দুর্নীতি শুধু রাস্তায় নয়, বরং আমাদের পরিবহন ব্যবস্থার সব ক্ষেত্রেই প্রসারিত। ফ্লাইওভার, বাস রুট, বা বড় বড় প্রকল্পগুলো অনেক সময় প্রমাণ বা প্রয়োজন না দেখে রাজনৈতিক স্বার্থ বা লাভের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। ফলে পরিবহন ব্যবস্থা মানুষের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়।
আমাদের রাস্তা অনিরাপদ কেন তা বোঝার জন্য আমাদের একটা অস্বস্তিকর সত্যকে স্বীকার করতে হবে: দুর্নীতি কোনো ব্যতিক্রম নয়, বরং এটা আমাদের ব্যবস্থার মূল কার্যপ্রণালী। লাইসেন্স কেনা হয় দলালের মাধ্যমে, অনেক সময় এতে পরীক্ষার্থীর উপস্থিতি প্রয়োজন হয় না। গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেটও কয়েক হাজার টাকায় কেনা যায়, কোনো পরীক্ষা ছাড়াই। রাস্তায় আইন প্রয়োগও একইভাবে আপস করা হয়। একটা বাস লাল সিগন্যাল অতিক্রম করলে একটা ছোট অঙ্কের টাকা দিলেই তা মাফ হয়ে যায়। একটা ট্রাক অতিরিক্ত পণ্য বহন করলে চেকপোস্টে একটা ছোট টাকা দিয়ে তা মুক্ত হয়ে যায়।
এই অভ্যাসের মূল্য শুধু অর্থের নয়। এগুলো আইনহীনতাকে স্বাভাবিক করে তোলে। যে ড্রাইভার লাইসেন্স এবং ফিটনেস সার্টিফিকেট কেনে এবং জরিমানা এড়ানোর জন্য ঘুষ দেয়, সে শিখে যায় যে নিয়মগুলো প্রযোজ্য নয়। আর যখন নিয়মগুলো প্রযোজ্য নয়, নিরাপত্তা বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে।
সস্তা এবং প্রমাণ-ভিত্তিক সমাধানগুলো, যেমন পায়ে চলার পথ মেরামত, নিরাপদ পারাপার স্থান নির্মাণ, রাস্তার পাশের জায়গা নিয়ন্ত্রণ, খুব কম মনোযোগ পায়। এগুলো কোনো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সুযোগ দেয় না। এগুলো মুখ্য পরিকল্পনার জন্য অর্থ বরাদ্দ করে না। সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের মনে, যে প্রকল্পগুলো মিডিয়ার আলোচনা বা রাজনৈতিক সুবিধা দেয় সেগুলোই প্রাধান্য পায়, সেগুলো নয় যেগুলো দৈনন্দিন জীবন ও গতিশীলতাকে সবচেয়ে বেশি উন্নত করে।
বিশ্বের সব জায়গায়, রাস্তার নিরাপত্তা তিনটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে: নিয়ম, প্রয়োগ, এবং আস্থা। বাংলাদেশের নিয়ম আছে। এমনকি প্রয়োগের জন্য সংস্থাও আছে। কিন্তু যা আছে না তা হলো আস্থা – কারণ নাগরিকরা জানে যে প্রয়োগ কেনা-বেচা করা যায়। এই দুর্নীতির পরিণতি মৃত্যুর সংখ্যায় পরিমাপ করা হয়।



