একটি অভিনব চিকিৎসা পদ্ধতি রক্তের ক্যান্সার নিরাময়ে সফল হয়েছে। এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে রোগীর শ্বেত রক্ত কোষের ডিএনএ সংশোধন করে তা ক্যান্সার প্রতিরোধী একটি ‘জীবন্ত ওষুধ’ হিসেবে রূপান্তরিত করা হয়।
প্রথম রোগী যাকে এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয়েছিল, সে এখনও রোগমুক্ত। তিনি একজন ক্যান্সার বিজ্ঞানী হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এছাড়াও আরও আটজন শিশু ও দুজন প্রাপ্তবয়স্ক যাদের টি-সেল অ্যাকিউট লিম্ফোব্লাস্টিক লিউকেমিয়া ছিল, তাদেরও এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয়েছে। রোগীদের মধ্যে ৬৪% এখন অসুস্থতামুক্ত।
টি-সেল হলো শরীরের রক্ষক। তারা শরীরের অভ্যন্তরে বিপদজনক জীবাণু খুঁজে বের করে তা ধ্বংস করে। কিন্তু এই রোগে টি-সেল অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়। এই রোগীদের জন্য কেমোথেরাপি ও অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়েছিল। এই চিকিৎসা পদ্ধতি ছাড়া তাদের জন্য শুধুমাত্র মৃত্যুকে সহজ করা ছিল একমাত্র বিকল্প।
একজন ১৬ বছর বয়সী মেয়ে বলেছেন, ‘আমি আসলে ভাবতাম যে আমি মরে যাব এবং আমি বড় হয়ে সবকিছু করতে পারব না।’ তিনি প্রথম ব্যক্তি যাকে এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয়েছিল। তিনি এখন তার জীবনকে ভালোভাবে উপভোগ করছেন।
এই বিপ্লবী চিকিৎসা পদ্ধতিতে তার পুরানো রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ধ্বংস করে একটি নতুন ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল। তিনি চার মাস ধরে হাসপাতালে ছিলেন এবং তার ভাইকে দেখতে পারেননি। কিন্তু এখন তার রোগ অনুপস্থিত এবং তাকে শুধুমাত্র বার্ষিক পরীক্ষা করতে হয়। তিনি তার এ-লেভেল পরীক্ষা, ডিউক অফ এডিনবার্গ অ্যাওয়ার্ড, ড্রাইভিং পাঠ এবং তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা করছেন।
তিনি বলেছেন, ‘আমি জৈব বিজ্ঞানে শিক্ষানবিশি করতে চাই এবং আশা করি একদিন রক্তের ক্যান্সার গবেষণায় কাজ করতে পারব।’
লন্ডনের বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এবং গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতালের দল একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে যাকে বলা হয় বেস এডিটিং। বেস হলো জীবনের ভাষা। চার ধরনের বেস – অ্যাডেনিন, সাইটোসিন, গুয়ানিন এবং থাইমিন – হলো জীবনের ভিত্তি।
এই চিকিৎসা পদ্ধতি রক্তের ক্যান্সার নিরাময়ে একটি নতুন আশার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এটি একটি অভিনব পদ্ধতি যা রোগীদের জন্য একটি নতুন জীবনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
সুতরাং, রক্তের ক্যান্সার নিরাময়ে এই চিকিৎসা পদ্ধতি কীভাবে কাজ করে এবং এর সম্ভাব্যতা কী? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে আমাদের আরও গবেষণা করতে হবে এবং এই চিকিৎসা পদ্ধতির সম্ভাব্যতা সম্পর্কে আরও জানতে হবে।



