জাপানের যুদ্ধবিমানে চীনা যুদ্ধবিমানের ফায়ার কন্ট্রোল রেডার তাক করার ঘটনায় চীনা রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে জাপান। এই ঘটনাটি জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচি চীনের এই কর্মকাণ্ডের কড়া জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
জাপানের যুদ্ধবিমানগুলো ওকিনাওয়ার মূল দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব আন্তর্জাতিক জলসীমায় চীনের জে-১৫ যুদ্ধবিমানগুলোর এই বিপজ্জনক কার্যকলাপের প্রতিবাদ জানিয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই ঘটনায় কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা কেউ হতাহত হয়নি। তবে জাপানের উপর কার্যত এটাই ছিল চীনের প্রথম হামলা-পূর্ববর্তী আগ্রাসী মনোভাব।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচি জানিয়েছেন, জাপান জলপথ ও আকাশপথে নজরদারি জোরদার করা এবং চীনের সামরিক কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য সব ধরনের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেবে। চীন-জাপান বর্তমান সংঘাতের সূচনা গত ৭ নভেম্বর। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জাপানের পার্লামেন্টে বলেছিলেন, চীন তাইওয়ান দখল করতে উদ্যোগী হলে তারা চুপ করে বসে থাকবেন না।
চীনের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছিল, তাইওয়ান নিয়ে নাক গলানো বন্ধ না করলে ‘ধ্বংসাত্মক সামরিক পদক্ষেপের’ মুখে পড়বে জাপান। চীনের হুমকি ঠেকাতে বুধবার তাইওয়ান উপকূল থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত ইয়োনাগুনি দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুদ্ধবিমান মোতায়েনের প্রস্তুতি শুরু করেছে জাপান। দুই দেশ মারাত্মক কূটনৈতিক বিরোধেও জড়িয়ে গেছে। চীনও জাপানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে, জাতিসংঘে অভিযোগ জানিয়েছে, চীনা নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলেছে এবং জাপানি সামুদ্রিক খাবার আমদানি নিষিদ্ধ করেছে।
এছাড়া জাপানি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও চলচ্চিত্রেও এর প্রভাব পড়েছে। জাপানের সামরিক মুখপাত্র মিনোরু কিহারা বলেছেন, জাপান এই পরিস্থিতির প্রতি সতর্কভাবে দৃষ্টি রাখছে। জাপান ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।



