বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের সংকট সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামল থেকে শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান। তিনি বলেন, এই সংকট নিয়ে কখনও সংসদে যথাযথ আলোচনা হয়নি।
রেহমান সোবহান বলেন, সংসদ সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনার মাধ্যম হলেও সেখানে দুর্নীতি, সরকারের অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন বা উন্নয়ন চর্চার মত বিষয়ে আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, সংসদে যে সকল সদস্য আসেন তারা অর্থ ও সম্পদ ব্যবহার করে ভোটে নির্বাচিত হন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ হিসেবে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সেই সময়ে সংসদে যাওয়ার জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীরা বাস ও রিকশায় চড়ে তাদের নির্বাচনি এলাকায় যেতেন। কিন্তু আজকের দিনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রার্থীদের একটি পাজেরো গাড়ি থাকা আবশ্যক।
রেহমান সোবহান বলেন, এই পরিস্থিতির ফলে সংসদে যে সকল সদস্য আসেন তারা অভিজাত শ্রেণির লোক। তারা নীতিনির্ধারণ করেন এবং তাদের স্বার্থে কাজ করেন। এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের জন্য একটি বড় সমস্যা।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য রেহমান সোবহান সংস্কারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংসদে সততা ও জবাবদিহিতার প্রতি মনোযোগ দেওয়া উচিত। এছাড়াও, রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে হবে এবং দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করতে হবে।
রেহমান সোবহানের মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে। এটি দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য সকল স্টেকহোল্ডারদের একসাথে কাজ করা উচিত।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নতির জন্য রেহমান সোবহানের মন্তব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের জন্য একটি নতুন দিশা নির্দেশ করে। এই দিশায় এগিয়ে যাওয়ার জন্য সকল স্টেকহোল্ডারদের সমর্থন ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতির জন্য রেহমান সোবহানের মন্তব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এটি দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের জন্য একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করার জন্য সকল স্টেকহোল্ডারদের একসাথে কাজ করা উচিত।



