রাজবাড়ীতে একটি চাঁদাবাজি মামলায় সাবেক রেলপথ মন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিমের ছেলে আশিক মাহমুদ ওরফে মিতুল হাকিমসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ মামলাটি পাংশা আমলী আদালতে করা হয়েছে।
পাংশা আমলী আদালতের বিচারক ও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসীন হাসান এ আদেশ দেন। এর আগে ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর পাংশা আমলী আদালতে ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন পাংশা পৌরসভার মাগুরাডাঙ্গি গ্রামের বাসিন্দা সুমন খন্দকার।
তদন্ত শেষে দুজনকে অব্যাহতি দিয়ে ২৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেন ফরিদপুর পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক। তাঁদের মধ্যে সাবেক রেলমন্ত্রীর ছেলে মিতুল হাকিম কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জেলা সদস্য ছিলেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, মিতুল হাকিমের নেতৃত্বে ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর ১০ লাখ টাকা চাঁদাদাবি করে সুমন খন্দকারের কাছে। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় ২৭ ডিসেম্বর তাঁর বসতবাড়িতে ঢুকে ককটেল ফাটিয়ে, মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে টাকা দাবি করে।
প্রাণভয়ে তাদের ৫ লাখ টাকা দেন তিনি। তবে আরও ৫ লাখ টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করে তারা। বাদী পক্ষের আইনজীবী রাজবাড়ী আদালতের এ কে এম শহিদুজ্জামান ও জাহিদ উদ্দিন মোল্যা বলেন, মামলার ৩১ জনকে আসামি করা হয়।
পিবিআই তদন্ত করে দুজনকে অব্যাহতি দিয়ে ২৯ জনের নামে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন বিচারক। মামলায় মিতুল হাকিম ছাড়াও অভিযুক্ত অন্যরা হলেন মাগুরাডাঙ্গি গ্রামের দীপক কুন্ডু, রঘুনাথপুর গ্রামের ফারুক সরদার, মৈশালা গ্রামের সফিক, রঘুনাথপুর গ্রামের জুয়েল, মোহাম্মদ ও সাইফুল; বড়গাছি গ্রামের চাঁদ আলী সরদার, মাগুরাডাঙ্গির আল আমিন, রবিন, মৈত্রডাঙ্গা গ্রামের মোমিন মন্ডল, লিটন মন্ডল, বড়গাছি গ্রামের শিপলু, রঘুনাথপুরের রেজা, লিটন, মনোয়ার হোসেন জনি, ওবায়দুর মন্ডল, দুধেশ্বরের বাদশা মন্ডল, শাহ-মীর গ্রামের লিটন মন্ডল, মৈশালার আসিব মন্ডল, মাছপাড়া গ্রামের দিলীপ চন্দ্র দাস, গুধিবাড়ীর সাদ্দাম, মাগুরাডাঙ্গির আবুল হোসেন, আব্দুর রাজ্জাক রাজা, বক্কার, আরিফ, হাসান, রুপিয়াট গ্রামের মাসুদ, মাগুরাডাঙ্গি গ্রামের রুমি হাকিম।
এ মামলায় আরও তদন্ত প্রয়োজন। আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য একটি তারিখ ধার্য করবে। এই মামলার বিচার কার্যক্রম এগিয়ে যাবে আইনানুগ পদ্ধতিতে।
এই মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, তারা আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তারা আশা করছেন যে এই মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত শেষ হবে এবং অপরাধীরা শাস্তি পাবেন।
এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে। পিবিআই এই মামলার তদন্ত করছে। তারা এই মামলার সাথে জড়িত সকলকে গ্রেপ্তার করবে বলে জানিয়েছে।
এই মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে পরবর্তী শুনানিতে। আদালত এই মামলার বিচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে এবং অপরাধীদের শাস্তি



