বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সমস্ত ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছে যাতে আগামী ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেয় এমন ব্যক্তিদের ঋণ তথ্য সঠিকভাবে ও সম্পূর্ণভাবে রিপোর্ট করা হয়। এই নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের মধ্যে এক বৈঠকের পর দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা নির্বাচন কমিশনকে প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থা যাচাই করতে সহায়তা করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই ঋণ শ্রেণীবিভাগ সংক্রান্ত বিদ্যমান বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা অনুসরণ করতে হবে এবং ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) ডাটাবেসে সমস্ত ঋণের সঠিক অবস্থা প্রতিফলিত হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে সিআইবি রিপোর্টিংয়ে কিছু পুনরাবৃত্ত ফাঁক রয়েছে, যেমন পুরানো ঋণগ্রহীতার পরিচয় তথ্য, ঋণের সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য সম্পূর্ণ না থাকা এবং অবৈতনিক ক্রেডিট কার্ড ফি অপরিশোধের কারণে ঋণ শ্রেণীবিভাগে ভুল। ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা ঋণগ্রহীতাদের ঋণের অবস্থা সঠিকভাবে আপডেট করে এবং সিআইবি ডাটাবেসে সেই তথ্য প্রতিফলিত করে।
ব্যাংকগুলোকে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা ঋণগ্রহীতাদের নো যোর কাস্টমার (কেওয়াইসি) এবং ই-কেওয়াইসি তথ্য অবিলম্বে আপডেট করে, যা ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ধারা ৫-এ সংজ্ঞায়িত ঋণগ্রহীতার সংজ্ঞা অনুযায়ী। এছাড়াও, ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা সিআইবি-সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে পারে, যা হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।
এই নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই সিআইবি-কে জানাতে হবে যে কোনো মামলা ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে বা রায় দেওয়া হয়েছে, যাতে সিআইবি ডাটাবেসে সেই তথ্য প্রতিফলিত হয়। এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচন কমিশনকে প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান করতে সাহায্য করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নির্দেশনা আগামী নির্বাচনে প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে স্বচ্ছতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এটি নির্বাচন কমিশনকে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করতে সাহায্য করবে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপ দেশের আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি নির্বাচন কমিশনকে প্রার্থীদের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান করতে সাহায্য করবে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করবে।



