জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, বাঙালির পরশ্রীকাতরতার উত্তরণ এখনো ঘটেনি। সোমবার নতুন জোট জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বাঙালির চরিত্রটাকে আমরা পরিবর্তন করতে পারি নাই। আমরা নাকি পরশ্রীকাতর। রবীন্দ্রনাথ বলছেন, ‘পরশ্রীকাতর এমন একটা শব্দ, এর কোনো বিকল্প ইংরেজি নাই; না ইংরেজি করা যায়, না উর্দু করা যায়’। মানে এমন একটা জিনিস শুধু বাঙালির এই জিনিসটা আছে—আরেকজনের ভালো দেখতে পারে না।
মঞ্জু বলেন, দেশ স্বাধীন করে আমরা কোনো ভুল করি নাই। হয়তো আমার কাছে আপনারা যা আশা করেছিলেন, সম্পূর্ণ আমি করতে পারি নাই বা আমরা পারি নাই। এর অর্থ এই নয় যে, আমরা পরাজিত—আমরা পাকিস্তান আমলে ভালো ছিলাম। এ কথা আপনি আমাকে দিয়ে বলতে পারেন না, পারবেন না।
এনডিএফ জোটের প্রধান উপদেষ্টা মঞ্জু বলেন, একটা দেশ হবে, সে দেশের মানুষ নির্ভয়ে বসবাস করবে। কিন্তু দুঃখজনক হলো, ৫৪ বছরের মধ্যে অনেক সরকার এসেছে, অনেক সরকার গিয়েছে, কিন্তু সবাই দেশবাসীকে ভয় দেখায়া দেশ পরিচালনা করার নীতি গ্রহণ করেছে। এটার কোনো পরিবর্তন হয় নাই।
মঞ্জু বলেন, এখানে আবার দেশে যে- কিছু হয় নাই, এটাও সত্য নয়। ৫৪ বছরে আমাদের ইনফ্রাস্ট্রাকচারে, অবকাঠামোতে যে পরিবর্তন হয়েছে; অনেক বিদেশিরা এবং দেশে যারা সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ- তারা আশ্চর্য হয়ে যায়, এটা আমরা কীভাবে করলাম!
বাঙালির পরশ্রীকাতরতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আজকে ৬৮ হাজার গ্রামের সাথে রাজধানীর সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। …গুলশানসহ রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় এত বড় বড় উচ্চ অট্টালিকা নির্মিত হয়েছে, এগুলো সব বাঙালি মালিক।
অতএব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে, সংগ্রাম করে আমরা ভুল করেছিলাম—এটা মনে করার কোনো কারণ নাই। যদিও একথা সত্য- আমরা নিজেদেরকেই নিজে অপমান করি, আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে চোর বলি।
এইচএম এরশাদের জাতীয় পার্টি থেকে ১৯৯৭ সালে বের হয়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও শেখ শহিদুল ইসলামের জাতীয় পার্টি-জেপির আলাদাভাবে পথচলা শুরু হয়।



