আসন্ন নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে, সেনাবাহিনীকে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক নেতৃত্বে অতি সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
দেশের সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেছে সেনাবাহিনী। স্বাধীনতাসংগ্রাম থেকে শুরু করে দুর্যোগ মোকাবিলা ও দেশ গঠনে ভূমিকা এবং সার্বিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করে সেনাবাহিনী এই বিশ্বাস অর্জন করেছে। গত দেড় দশকে দেশের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠান দুর্বল করা/ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সেনাবাহিনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালনকালে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা পেলেও অত্যন্ত রক্ষণশীলভাবে দায়িত্ব পালন করছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি যেভাবে জনগণ শুরুতে আশা করেছিল, তেমন উন্নতি না হলেও একটা সহনীয় সীমানার মাঝে রাখা গেছে।
আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সেনাবাহিনীকে নিরাপত্তা অঙ্গনে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক নেতৃত্বে অতি সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয়তা আছে। চলতি নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে নির্বাচন-সম্পর্কিত কিছু সহিংসতা যোগ হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর খোয়া যাওয়া সব অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়নি।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নির্বাচন নিয়ে সম্পূর্ণ ঐকমত্য সৃষ্টি হয়নি। ইতিমধ্যে কিছু কিছু নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী/সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গেছে, যা সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। দেশ ও বিদেশ থেকে অপতথ্য ও ভুয়া খবর ছড়িয়ে এবং সংখ্যালঘু কার্ডসহ আওয়ামী লীগ ও তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল গোষ্ঠী পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করার প্রয়াস নেবে।
দেশ ও নিরাপত্তা বাহিনী যখন অভ্যন্তরীণ নির্বাচন নিয়ে মনোযোগ দেবে, দেশের দক্ষিণ-পূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রাখাইন-সংলগ্ন সীমান্ত ঝুঁকিতে থাকবে। এ সুযোগে কিছু রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
নির্বাচন কমিশনের সার্বিক নেতৃত্বে সেনাবাহিনীকে অতি সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই ভূমিকা রাখার মাধ্যমে সেনাবাহিনী দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়াও, সেনাবাহিনী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।
সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। সেনাবাহিনীকে নিরাপত্তা অঙ্গনে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক নেতৃত্বে অতি সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এই ভূমিকা রাখার মাধ্যমে সেনাবাহিনী দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সাহায্য করতে পারে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।



