আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় করা মামলায় ওবায়দুল কাদের, যুবলীগ সভাপতিসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হয়েছে। এই মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজ দিন ধার্য ছিল।
এর আগে গত ১৫ অক্টোবর পৃথক মামলায় কাদেরসহ মোট ৪৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে আজকের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল-১। অন্যদিকে, হত্যা-গণহত্যার দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের আমলের ১৭ জন সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কঠোর নিরাপত্তায় আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
সকাল পৌনে ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুরসহ বিভিন্ন কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তায় এই ১৭ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। আজ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই মামলাগুলোর অগ্রগতির বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে আনা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক এমপি সোলায়মান সেলিম ও ফারুক খান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ও সালমান এফ রহমান এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।
প্রসিকিউশন আসামিদের মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আলাদা ফরমাল চার্জ দিয়েছে। এর মধ্যে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান-এর বিরুদ্ধে কারফিউ দিয়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা আদালত আমলে নিয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন।
এছাড়া, জুলাই অভ্যুত্থানে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।



