স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও মুক্তিযুদ্ধের অনেক গল্প অশ্রুত রয়ে গেছে। এই ১২ পর্বের সিরিজের ৪র্থ পর্বে আমরা নরসিংদীর শিবপুরে যাব, যেখানে বামপন্থী যুবকরা আবদুল মান্নান ভূইয়ার নেতৃত্বে একটি বিপুল অধ্যায় রচনা করেছিল।
নরসিংদীর শিবপুর এলাকায় একটি বিপুল গেরিলা বাহিনী গড়ে উঠেছিল। পূর্ব বাংলা সমন্বয় কমিটির কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের উদ্যোগে এবং বামপন্থী ছাত্রনেতা আবদুল মান্নান ভূইয়ার নেতৃত্বে এই বাহিনী গঠিত হয়েছিল। এই বাহিনীতে ১২০০র বেশি যোদ্ধা যোগ দিয়েছিল এবং তাদের ক্যাম্পে ৪০০০র বেশি যুবক-যুবতী প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। শিবপুরে মূল ঘাঁটি থাকলেও এই বাহিনীর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছিল নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থেকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি পর্যন্ত।
এই বাহিনীর কাহিনী বিভিন্ন বইতে ফুটে উঠেছে, যেমন হায়দার আনোয়ার খানের ‘একাত্তরের রনঙ্গন: শিবপুর’, হায়দার আকবর খান রনোর ‘শতাব্দী পেরিয়ে’ এবং মান্নান ভূইয়ার নিজের ‘জীবন ও সংগ্রাম’।
এই বাহিনীর গল্প শুরু হয় ১৯৭০ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি, যখন ঢাকার পল্টন ময়দানে পূর্ব বাংলা সমন্বয় কমিটির একটি র্যালিতে তরুণ নেতারা স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক পূর্ব বাংলা গঠনের দাবি জানান।
মুস্তফা জামাল হায়দার, ৮৩ বছর বয়সী একজন মুক্তিযোদ্ধা, বলেছেন যে তারা বক্তৃতা দেওয়ার জন্য নিপীড়িত হয়েছিলেন। পরে সামরিক আদালত কাজী জাফর ও রাশেদ খান মেননকে ৭ বছরের জন্য এবং তাকে ও মাহবুব উল্লাহকে ১ বছরের জন্য কারাদণ্ড দেয়।
এই ঘটনার আগে, ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নির্দেশে, মান্নান ভূইয়া শিবপুরের গ্রামগুলিতে কৃষক সংগঠন গড়ে তোলেন। ১৯৭১ সালে, তিনি শিক্ষার্থী, যুবক ও কৃষকদের সংগঠিত করতে শুরু করেন।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ, মান্নান ভূইয়া শিবপুরে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।
এই ঘটনার পর, শিবপুরের বামপন্থী যুবকরা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। তারা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ চালায়।
শিবপুরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই অধ্যায়টি আমাদের দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যে ত্যাগ ও সংগ্রাম করতে হয়েছিল তার একটি প্রমাণ।
শিবপুরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমাদের দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এই অধ্যায়টি আমাদের দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যে ত্যাগ ও সংগ্রাম করতে হয়েছিল তার একটি প্রমাণ।



