ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর জানিয়েছেন, ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিকে আরও আধুনিক করতে অপ্রতিরোধ্য স্টেলথ প্রযুক্তি যুক্ত করার ওপর জোর দিচ্ছে। তার দাবি, এ ধরনের প্রযুক্তি যুক্ত হলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সহজেই ইসরায়েলের এন্টি-মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ভেদ করতে সক্ষম হবে।
পাকপুর বলেন, যদি আমরা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে স্টেলথ প্রযুক্তি প্রয়োগ করতে পারি, তাহলে নিঃসন্দেহে সেগুলোর ভেদক্ষমতা আরও বাড়বে এবং শত্রুর প্রতিরক্ষা বর্ম ভেঙে প্রবেশ করতে পারবে। তিনি সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে জানান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ভেবেছিল উচ্চপদস্থ ইরানি কমান্ডারদের হত্যার মাধ্যমে সামরিক কমান্ড ভেঙে ফেলবে কিন্তু তাদের সেই হিসাব ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
পাকপুর বলেন, যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইরান যে ব্যাপক আকারে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করবে, তা ইসরায়েলের ধারনাতেও ছিল না। তারা ভেবেছিল পাঁচ-ছয়টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান সমপরিমাণ শক্তি দিয়ে জবাব দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
যুদ্ধের শেষ রাতে কাতারের আল-উদেইদ মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনাও উল্লেখ করেন পাকপুর। তার দাবি, সেই হামলার পরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে বার্তা পাঠায়, তোমরা যদি আর হামলা না করো, আমরাও করব না। তার মতে, ১২ দিনের মাথায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোট ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও জাতীয় ঐক্যের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুদ্ধবিরতি চাইতে বাধ্য হয়।
আইআরজিসি প্রধান বলেন, এই যুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিই ছিল আমাদের জয়ের অন্যতম প্রধান উপাদান। শত্রুরা জানে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসন চালানো মানে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠোর প্রতিশোধের মুখোমুখি হওয়া। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, বিশেষ করে স্টেলথ ও এয়ার ডিফেন্স সক্ষমতা জোরদারের বিকল্প নেই; কারণ প্রতিপক্ষ তার দুর্বলতা কাটাতে ক্রমাগত নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগ করছে।
পাকপুর সাম্প্রতিক সংঘাতকে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুদ্ধ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, সেখানে ইরানকে উন্নত মার্কিন ও ইউরোপীয় সামরিক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এই যুদ্ধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ছিল সফলতার প্রধান কারণ। ইরান তার সামরিক সক্ষমতা আরও বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করার জন্য প্রযুক্তিগত উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।
ইরানের এই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সামরিক প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর এর প্রভাব পড়বে। ইরানের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি বিশ্ব রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের এই প্রযুক্ত



