চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর রেলস্টেশন এলাকায় এক পরিবারের চার বছরের শিশু অপহরণের ঘটনায় সাত বছরের এক শিশুর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেন অপহরণ হওয়া শিশুর মা আনোয়ারা বেগম।
পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অমিতাভ দত্ত জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার সময় চার বছরের শিশু অপহরণ হয়। এ ঘটনায় সাত বছরের শিশু ও তার মাকে আসামি করা হয়েছে।
শিশু আইন অনুযায়ী, নয় বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। তবে এ ঘটনায় সাত বছরের শিশুর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক জানান, মামলা দায়ের করার পর সাত বছরের শিশু ও তার মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানায় এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতপাড়া ও নগর পুলিশে আলোচনা চলছে।
ঘটনার শুরু চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল। চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহর রেলস্টেশন এলাকায় বসবাসরত আনোয়ারা বেগমের দুই সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান অসুস্থ হলে সেদিন চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সঙ্গে নিয়ে যান চার বছরের ছোট সন্তান মো. রামিমকেও। কিন্তু রামিম সেখান থেকে হারিয়ে যায়।
এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও রামিমকে না পেয়ে ঘটনার সাত মাস পর শুক্রবার পাঁচলাইশ থানায় অপহরণ মামলা করেন তার মা আনোয়ারা বেগম।
মামলায় আসামি করা হয় আইনের সংস্পর্শে নেওয়া ৭ বছরের শিশুটি ও তার ৩০ বছর বয়সী মাকে। এতে বলা হয়, বাদী জানতে পারেন তাঁর ছেলেকে হাসপাতালের বারান্দা থেকে সাত বছরের ওই শিশু ও তার মা খেলার কথা বলে অপহরণ করে নিয়ে যান।
মামলা হওয়ার পর ওই দিনই পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক ষোলশহর এলাকা থেকে সাত বছরের শিশু ও তার মাকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার বাদী আনোয়ারা বেগম আজ রোববার জানান, তাঁর চার বছরের শিশুর এখনো খোঁজ পাননি। সাত বছরের শিশু কীভাবে অপহরণ করল জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, একজনের কাছ থেকে জানতে পারেন শিশুটি ও তার মা অপহরণে জড়িত।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৭ চট্টগ্রামের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শফিউল মোরশেদ জানান, শিশু আইন ও দণ্ডবিধিতে ৯ বছরের কম বয়সী কোনো শিশুর বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া, গ্রেপ্তার কিংবা আটকের সুযোগ নেই।
আদালতের আদেশের নথি, মামলা এজাহারে বাদী শিশুটির বয়স সাত উল্লেখ করেছেন। শিশুটির বাবারও দাবি, ছেলেটি বয়স সাত।
পাঁচলাইশ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অমিতাভ দত্ত জানান, আইনে না থাকলেও কেন সাত বছরের শিশুর বিরুদ্ধে থানায় মামলা গ্রহণ ও আইনের সংস্পর্শে নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নেই’।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ বলছে, তারা এ ঘটনায় সত্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে।
এদিকে, সাত বছরের শিশুটি এখন গাজীপুরের টঙ্গীতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ



