বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তার জন্য জাতীয় এক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইংগ্রিডিয়েন্ট (এপিআই) নীতি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করে অলায়ন্স ফর হেলথ রিফর্মস বাংলাদেশ (এইচআরবি)।
এই নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার ওষুধ উৎপাদনে আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে পারবে।
এইচআরবির আহ্বায়ক সৈয়দ আবদুল হামিদ ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিকাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ আকরাম হোসেন স্বাক্ষরিত একটি খোলা চিঠি প্রকাশিত হয়েছে।
এই চিঠিতে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ তার দেশীয় ওষুধের চাহিদা প্রায় ৯৮ শতাংশ মেটাতে পারলেও এখনও আমদানি করা এপিআইগুলির উপর খুব বেশি নির্ভরশীল।
এই নির্ভরশীলতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলের ব্যাঘাতের কারণে দেশকে ঝুঁকিতে ফেলছে।
স্বাস্থ্য সেক্টর সংস্কার কমিশন ইতিমধ্যেই স্থানীয় এপিআই উৎপাদনকে একটি জাতীয় কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
এইচআরবি সরকারকে এই নীতিটিকে একটি ব্যবসায়িক সংস্কার হিসেবে না দেখে দেশের ভবিষ্যত অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সার্বভৌমত্বের জন্য একটি মৌলিক বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে বলেছে।
বাংলাদেশের ওষুধ উৎপাদনে দ্রুত অগ্রগতি অর্জনের জন্য এইচআরবি প্রধান উপদেষ্টাকে পাঁচটি জরুরি অগ্রাধিকার তুলে ধরেছে।
এর মধ্যে রয়েছে এপিআই উৎপাদনে বাধাগুলি দূর করা এবং একটি প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা প্রবর্তন করা।
এছাড়াও, ওষুধ গবেষণা ও উন্নয়নে সরকারি তহবিল বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার স্বাস্থ্য সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে পারবে।
কিন্তু এটি করার জন্য সরকারকে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং সময়মতো বাস্তবায়ন করতে হবে।
আমরা কি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারব?
আমরা কি আমাদের স্বাস্থ্য খাতকে আরও সুরক্ষিত করতে পারব?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজে পেতে আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।



