বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, দেশের মানুষ বর্তমানে আরামদায়ক অবস্থায় আছে। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের আগে যারা ক্ষমতায় ছিল, তাদের সময় দুর্গা পূজা এলে প্রায় মূর্তি ভাঙচুর, আগুন দেওয়া, আক্রমণ করা হতো। এসব দায় দায়িত্ব জামায়াত-শিবিরের কাঁধে দেওয়া হতো।
তিনি বলেন, কিন্তু দেখেন, ২০২৫ সালে কোনো দুর্গা পূজায় আক্রমণ হয়নি, ভাঙচুর হয়নি, আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেনি। দেশের মানুষ বর্তমানে আরামদায়ক অবস্থায় আছে। আর যারা মন্দির ভেঙেছে, আগুন দিয়েছে, আক্রমণ করেছে তারা দেশ থেকে পালিয়ে গেছে।
একই সময়ে, তিনি বলেন, এত দিন আমাদের দেশকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল। কেউ স্বাধীনতার পক্ষে, কাউকে স্বাধীনতার বিরোধী বলা হয়েছে। একটি দেশের নাগরিককে দুভাগে বিভক্ত করে কোনো দেশ বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না।
তিনি বলেন, আমরা নাগরিকরা যে দলেরই হই না কেন, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। তাই আমরা বিভক্ত না হয়ে সবাই দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করি।
স্বাধীনতার পরবর্তী গত ৫৪ বছরে ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ, জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্রের মাধ্যমে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা নৌকা দেখেছি, ধানের শীষ দেখেছি, লাঙ্গল দেখেছি; তারা তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছে। কিন্তু দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করেনি।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলাম সংখ্যাগরিষ্ঠ অর্জন করে সংসদে গেলে মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করবে। মুসলিম-অমুসলিম, নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে শান্তির দেশ কায়েম করবে। কোরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে।
আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে এ দেশের সংসদ ও ইসলামি সরকার কায়েম হবে আশাবাদ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলাম এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায় না। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের শাসন কায়েম করতে চাই। আমরা ৮টি ইসলামি ও দেশপ্রেমিক দল একত্রিত হয়ে আগামী নির্বাচনে এক বাক্সে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করছি।
উপজেলা জামায়াতের আয়োজনে গাড়াগ্রাম টেপার হাটে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৯০ পরিবারের মধ্যে পুনর্বাসনে ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম।



