আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম-বিষয়ক মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ডিজিএফআইতে লে. কর্নেল (অব.) মখসুরুল হকের কোনো সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বা চার্টার অব ডিউটি না থাকলেও তিনি সংস্থাটির হয়ে অনেকটা ভাড়াটে খুনি বা মার্সেনারির মতো কাজ করতেন।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত ১৩ আসামির মধ্যে লে. কর্নেল (অব.) মখসুরুল হক ছিলেন সবচেয়ে ভয়ংকর। তিনি গুমের শিকার ব্যক্তিদের তুলে আনা থেকে শুরু করে নির্যাতন এবং হত্যা শেষে লাশ গুম বা ডিসপোজাল করার মতো নৃশংস কাজগুলো মূলত তিনিই করতেন।
আজ রোববার (৭ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম-বিষয়ক মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, মখসুরুলের ব্যাপারে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে ডিজিএফআইতে তার কোনো সুনির্দিষ্ট দাপ্তরিক দায়িত্ব ছিল না। অথচ অনেকটা ফ্রিল্যান্সারের মতো তিনি নিজেকে বিভিন্ন অপারেশনে সম্পৃক্ত করতেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ২০১৫ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ডিজিএফআই পরিচালিত জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা আয়নাঘরে ২৬ জনকে গুম, আটকে রাখা ও নির্যাতনের অভিযোগে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকসহ ১৩ জন সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীসহ অনেক ভুক্তভোগীকে বছরের পর বছর এই গোপন বন্দিশালায় অমানবিক পরিবেশে আটকে রাখার অভিযোগ রয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে বিচারের মুখোমুখি করার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হবে।



