মুক্তিযুদ্ধের সময় ময়মনসিংহ এলাকা ১১ নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল। ১৬ ডিসেম্বরের আগেই একে একে মুক্ত হতে থাকে জেলার বিভিন্ন এলাকা। মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে এসব এলাকা মুক্ত করে।
মুক্তিযোদ্ধা বিমল পাল হালুয়াঘাটে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ৩ ডিসেম্বর থেকে মিত্র বাহিনী ময়মনসিংহ অঞ্চলে অবস্থানরত পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর আক্রমণের পরিকল্পনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় মিত্র বাহিনী বাংলাদেশে ঢোকে হালুয়াঘাটের সূর্যপুর এলাকা দিয়ে। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে তারা ৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর আক্রমণ শুরু করে।
সীমান্ত এলাকায় শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ। একপর্যায়ে পিছু হটতে থাকে পাকিস্তানি বাহিনী। ৭ ডিসেম্বর হালুয়াঘাট মুক্ত হয়। হালুয়াঘাট মুক্ত হওয়ার কথা স্মরণ করে ধোবাউড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদির বলেন, হালুয়াঘাটের সূর্যপুরের পাশাপাশি গোবরাকুড়া, কড়ইতলী, আয়নাতলী এলাকা থেকেও যৌথ বাহিনী আক্রমণ চালায়।
রাতভর যুদ্ধের পর পাকিস্তানি বাহিনী সীমান্ত এলাকা ছেড়ে পালাতে শুরু করে। ৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে গুলি ছুড়তে ছুড়তে হালুয়াঘাট সদরে চলে আসেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়ের খবর দ্রুত গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এতে গ্রামের সব শ্রেণি–পেশার মানুষ আনন্দ–উল্লাস করে হালুয়াঘাট উপজেলা শহরে এসে মিছিল করে। বিজয় উদযাপন করে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদির বলেন, ‘আমরা ওদের ধাওয়া করছিলাম আর ওরা পালিয়ে যাচ্ছিল।’ মুক্তিযুদ্ধের সময় ধোবাউড়া উপজেলা ছিল না বলে জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদির। তিনি বলেন, দুর্গাপুরের চারটি, হালুয়াঘাটের দুটি ও পূর্বধলার একটি ইউনিয়ন নিয়ে ধোবাউড়া উপজেলা গঠিত হয়। চারটি উপজেলা যেহেতু দুর্গাপুরের, সে কারণে এবং দুর্গাপুর উপজেলা ৮ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীমুক্ত হওয়ায় সে দিনটিকেই ধোবাউড়ার মুক্তি দিবস হিসেবে ধরা হয়।
মুক্তিযুদ্ধ–বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকাশিত বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ সেক্টরভিত্তিক ইতিহাস (সেক্টর ১১) ও আগামী প্রকাশনী প্রকাশিত একাত্তরের বিজয়গাথা বইয়ের তথ্য, ময়মনসিংহের গৌরীপুর, ফুলবাড়ীয়া ও ভালুকা মুক্ত হয় ৮ ডিসেম্বর; ফুলপুর, তারাকান্দা, ঈশ্বরগঞ্জ, ত্রিশাল ও গফরগাঁও ৯ ডিসেম্বর; সদর ও মুক্তাগাছা মুক্ত হয় ১০ ডিসেম্বর, নান্দাইল মুক্ত হয় ১১ ডিসেম্বর।



