দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় উন্নয়ন হলেও শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, শিক্ষার উন্নয়ন হলেও শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়েনি। ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি বাড়লেই শিক্ষার মানোন্নয়ন হয় না।
তৌহিদ হোসেন বলেন, রাষ্ট্রে শিক্ষার প্রতিফলন ঘটানোই প্রকৃত মানোন্নয়ন। জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শিক্ষা খাতে মোট বাজেটের ২৫ শতাংশ বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য এসব মন্তব্য করেন তিনি। এদিন সাবেক কৃতি শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি শিক্ষার্থী ও এলাকার সুধীজনের মাঝে উপস্থিত ছিলেন।
তৌহিদ হোসেন বলেন, দেশে গত ৬০ বছরে শিক্ষার ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। গ্রামে-গঞ্জে সব বিদ্যালয়ে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী এখন নারী।
শিক্ষা ও শিক্ষকদের মান উন্নয়নের দিকে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে লেখাপড়া ছাড়াই পাস করিয়ে দেওয়ার প্রবণতা ছিল। বর্তমানে এ অবস্থা হতে বের হওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শুধু বরাদ্দ বাড়িয়ে নয় গুণগত মান উন্নয়নের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু অর্থ বরাদ্দ নয়, এর যথাযথ ব্যবহার করা প্রয়োজন। জিডিপির ১০ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা প্রয়োজন। শিক্ষার গুণগতমান না বাড়ার কারণে বিদেশে গিয়েও আমাদের শ্রমিকরা প্রতারিত হচ্ছে। অন্য দেশের তুলনায় আমাদের শ্রমিকেরা ৭৫ শতাংশ বেতন কম পায়।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অন্য দেশের তুলনায় ৫ থেকে ৭ গুন বেশি টাকা দিয়ে আমাদের দেশের লোকজন বিদেশে শ্রমিক হিসেবে যায়। এটা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা।
তিনি জনগণকে জনসম্পদে পরিণত করার উপর গুরুত্ব দেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম (পিপিএম), ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার তনিমা জামান তন্বী, মাগুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান মিঠু প্রমুখ।
শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানো এবং শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে সরকারকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উপর চাপ কমাতে এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সরকারকে কাজ করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে আমাদের সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়ানো, শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করা আমাদের সবার দায়িত্ব।



